পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে মুনাফায় হাইডেলবার্গসিমেন্ট

২০২২ সালে করোনা-পরবর্তী হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এতে করে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও একই হারে উৎপাদিত সিমেন্টর মূল্য বাড়ানো যায়নি। ফলে ২০২২ সাল সিমেন্ট কোম্পানিগুলোকে মুনাফায় টিকে থাকতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের মতো কিছু কোম্পানিকে লোকসানে পড়তে হয়। তবে চলতি বছর সিমেন্টের দাম বাড়ানোয় আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কোম্পানিটি। লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

চলতি বছর দেশের প্রায় সব ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। এতে করে কোম্পানিগুলোর পণ্য বিক্রি থেকে আয়ও বেড়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি ২০২৩ হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর) হাইডেলবার্গসিমেন্টের আয় ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর সুবাদে আলোচ্য সময়ে ৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা আগের হিসাববছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানির আয় বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় উল্টো কমেছে। ২০২২ সালের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় ছিল বিক্রির ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি বছরের একই সময়ে ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে করে চলতি বছরের ৯ মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৯৪ পয়সা। যেখানে এর আগের হিসাববছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ২৭ পয়সা। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ১ পয়সায়।

এদিকে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৩৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যেখানে এর আগের হিসাববছরের একই সময়ে ছিল ৩৪৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যেখানে এর আগের হিসাববছরের একই সময়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিট লোকসান ছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৮ পয়সা, যেখানে এর আগের হিসাববছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৬৪ পয়সা লোকসান হয়েছিল।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় পণ্য বিক্রির মূল্য বাড়ার কারণে কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাববছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে হাইডেলবার্গসিমেন্টের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা। এর আগের হিসাববছরের একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৮ টাকা ৪১ পয়সা।