নাহিদার ঘূর্ণিতে পাকিস্তান বধ

ঘরের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টি২০-তে হারাল বাংলাদেশ। নাহিদা আক্তারের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং আর নিগার জ্যোতির অপরাজিত ২৬ রানের সুবাদে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলার মেয়েরা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে সফরকারীদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান অধিনায়ক জ্যোতি। নাহিদার স্পিন জাদুতে পাকিস্তানকে মাত্র ৮২ রানেই বেঁধে ফেলে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদা। ৪র্থ ওভারে ফেরান সিদরা আমিনকে। পরের ওভারে ফিরে এসেই তুলে নেন ১৬ রান করা মুনিবা আলির উইকেট। খেই হারানো পাকিস্তান এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। পাকিস্তানের বিসমাহ মারুফের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ২০ রান। নাতালিয়া পারভেজ করেন ১৫ রান।

ক্যারিয়ার-সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের দিনে নাহিদা একাই শিকার করেন ৫ উইকেট। ৩.৪ ওভার বল করে ১ মেইডেন ও মাত্র ৮ রান দিয়ে এ কীর্তি গড়েন তিনি। এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকার। এছাড়া সুলতানা খাতুন, রাবেয়া খান ও স্বর্ণা আক্তার ১টি করে উইকেট নেন।

৮৩ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুরুটা হয় ধীরগতির। দলীয় ১২ রানে শামিমা সুলতানা ফেরেন উম্ম-এ-হানির শিকার হয়ে। এতে কমে যায় রানের গতি। ১৬ রান করা সোবহানা ফিরে গেলে প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় ২ উইকেটে ৩৩ রান।

এর পরে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ক্রিজে এলে রানের পালেও হাওয়া লাগে। ২টি চারে ৩৯ বলে ২২ রান করে মুরশিদা ফেরেন ১৫তম ওভারে। তার উইকেটটি নেন নাশরা সান্ধু। স্বর্ণা আক্তারও ফিরে যান দ্রুত। মাত্র ২ রান করে ডায়ানা বেগের বলে বোল্ড হন। এরপর জ্যোতির ব্যাটে ভর করেই জয়ের দিকে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ১৯তম ওভারে সুলতানা রান আউট হলে শঙ্কা জন্মায় খানিকটা। সেসব উড়িয়ে রিতু মনিকে নিয়ে ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছান জ্যোতি। ম্যাচশেষে জ্যোতি বলেন, ‘জিততে পেরে খুশি তবে আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। এই লক্ষ্যে ১৫ ওভারের মধ্যে পৌঁছালে আরও ভালো লাগত।’

তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদা আক্তার।