কপিরাইট
অবন্তিকা, অতি-নারী, অধুনান্তিকা
পঞ্চান্ন বছর আগে চৈত্রের কোনারকে
লোডশেডিঙের রাতে হোটেলের ছাদে
ঠোঁটের ওপরে ঠোঁট রেখে বলেছিলি
চুমু প্রিন্ট করে দিচ্ছি সারা নোনা গায়ে
ম্যাজেন্টা-গোলাপি ভিজে লিপ্সটিকে
গুনেগুনে একশোটা, লিমিটেড এডিশান
কপিরাইট উল্লঙ্ঘন করলে চলবে না ।
অবন্তিকা, সাংবাদিকা, অধুনান্তিকা
এ-চুক্তি উভয়েরই ক্ষেত্রে লাগু ছিল
কিন্তু দুজনেই এর-তার কাছে থেকে
শুনেছি কখন কবে কার সাথে শুয়ে
ভেঙেছি ভঙ্গুর চুক্তি কেননা মজাটা
ঠোঁটের ফাইনপ্রিন্টে লিখেছিলি তুই
রবীন্দ্রনাথের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
আজ দেখি এলুমিনিয়াম বাক্সে গোছ করা আমারই মড়া
অর্ধেক পাঁজর পুড়ে গেছে রাবার জ্বালানো আঁচে
আমাকে ক্ষমা করো
মানুষের মগজ নষ্ট হোক আমার
আমার নখ-দাঁত নষ্ট হয়ে যাক
হাতির আঁদুয়া দিয়ে বেঁধে রাখো আমায়
দেখতে চাই রক্তের ভেতর হাঙর আফানি দেয় কি না
লাথি লেগে ভাতের থালার ওপর জলের গ্লাস উলটে পড়ুক
আমাকে ক্ষমা করো
সন্তানের আত্ম-মৈথুন করা হাতে মুখাগ্নি
উলুঘাস-বুনোটের শেকড়ের পাশে পোকাদের নিঃশব্দ সঙ্গম
এতদিন এদের মুখে থুতু ছিটিয়ে দিতে পারি নি
ধানকাটা নিয়ে এবছর অনেক লাশ পড়ে গেল
বাইসন শিকারের জন্য বেত্লার জঙ্গলে আমাদের চিত্কার
হরিণের মাংস কাটা হয়েছিল কোদাল দিয়ে
আমার ছেলে-মেয়েরা খরগোশের চোখ উপড়ে
খেলা করছিল বেত্লার দুর্গে
এলুমিনিয়াম বাক্সে আমার লাশ বাঁচিয়ে তুলতে চাইছি
আমাকে ক্ষমা করুন।
গানের নদী
হ্যাঁ ! ঠিক দেখছি কি ? হ্যাঁ, ওইখান থেকে
নদী বাঁক নিয়েছিল তোর গান শুনে
অবন্তিকা ; তোর কন্ঠস্বরে বনাঞ্চল
রুপোলি লেজার আলো মেখে পাগলের
নিঃশ্বাসে ওগরানো সমুদ্রের ঢেউ
ডেকে নিয়ে গিয়েছিল অজস্র মানুষ
যারা তোর গান শুনে বেঁচে থাকবার
পাচ্ছিল উদ্দেশ্য খুঁজে ! কী করলি তুই ?
পট-হ্যাশ-কোক-অ্যামফিটেমাইনের
ব্ল্যাক হোলে নদীটাকে নিয়ে চলে গেলি–
কেন গেয়েছিলি তবে ‘ভালোবেসে যাবো
তোমাদের চির কাআআআআআআল…
চিরকাল এত ছোটো ? এতটুকুখানি !
মাথা কেটে পাঠাচ্ছি, যত্ন করে রেখো
মাথা কেটে পাঠাচ্ছি, যত্ন করে রেখো
মুখ দেখে ভালোবেসে বলেছিলে, “চলুন পালাই”
ভিতু বলে সাহস যোগাতে পারিনি সেই দিন, তাই
নিজের মাথা কেটে পাঠালুম, আজকে ভ্যালেনটাইনের দিন
ভালো করে গিফ্টপ্যাক করা আছে, “ভালোবাসি” লেখা কার্ডসহ
সব পাবে যা-যা চেয়েছিলে, ঘাম-লালা-অশ্রুজল, ফাটাফুটো ঠোঁট
তুমি ঝড় তুলেছিলে, বিদ্যুৎ খেলিয়েছিলে, জাহাজ ভাসিয়েছিলে
তার সব চিহ্ণ পাবে কাটা মাথাটায়, চুলে শ্যাম্পু করে পাঠিয়েছি
উলঙ্গ দেখার আতঙ্কে ভুগতে হবে না
গৌড়ীয় লবণাক্ত লিঙ্গ কোনো স্কোপ আর নেই
চোখ খোলা আছে, তোমাকে দেখার জন্য সব সময়, আইড্রপ দিও
গিফ্টপ্যাক আলতো করে খুলো, মুখ হাঁ-করাই আছে
আমার পছন্দের ননভেজ, সন্ধ্যায় সিঙ্গল মল্ট খাওয়াতে ভুলো না
মাথাকে কোলেতে রেখে কথা বোলো, গিটার বাজিয়ে গান গেও
ছ’মাস অন্তর ফেশিয়াল করিয়ে দিও, চন্দনের পাউডার মাখিও
ভোর বেলা উঠে আর ঘুমোতে যাবার আগে চুমু খেও ঠোঁটে
রাত হলে দু’চোখের পাতা বন্ধ করে দিও, জানো তো আলোতে ঘুমোতে পারি না
কানে কানে বোলো আজও উন্মাদের মতো ভালোবাসো
মাথা কেটে পাঠালুম, প্রাপ্তি জানিও, মোবাইল নং কার্ডে লেখা আছে
প্রিয়াংকা বড়ুয়া
প্রিয়াংকা বড়ুয়া তোর
ঠোঁটের মিহিন আলো
আমাকে দে না একটু
ইলেকট্রিসিটি নেই
বছর কয়েক হল
আমার আঙুলে হাতে
তোর ওই হাসি থেকে
একটু কি নিভা দিবি
আমার শুকনো ঠোঁটে
যখনি বলবি তুই
কবিতার খাতা থেকে
তুলে দিয়ে দেব তোকে
আগুনও আছে নাকি
তোর দেহে কোনো খাঁজে
চাইতে বিব্রত লাগে
জোনাকির সবুজাভ
আলো থাকলেও চলে
দে না রে একটুখানি
ঠোঁট যে শুকিয়ে গেছে
প্রিয়াংকা বড়ুয়া দ্যাখ
কবিতা লেখাও বন্ধ
তোর দেয়া কবেকার
অন্ধকারে এখনও
হাতের আঙুল ডুবে
ভালোবাসার কবিরা
আর কবিতার বই বেরোবে না অবন্তিকা, বের করব না,
তাই তোকে ফিরে পেতে স্মৃতি কুরে ওগরানো ঘুণপোকা
পদ্যের ভেতরে পুরে পাঠাচ্ছি তোর যত প্রেমিকের ভিড়ে,
হ্যাঁ, তোকে, ঠিক শুনেছিস তুই, মস্তিখোর বেটিং জমঘটে
গিয়ে খুলে দেখা তোর হেলেনিক ছাব্বিশি লালিমা
ছেঁড়া নোংরা ছাতাপড়া তাকার গাদায় তো শুস শুনি
নিজেকে ভাবিস বুঝি সুগন্ধী বাউন্সারে ঘেরা গাগা লেডি
লালটুশ প্রেমিকগুলোকে কেটে ফালি-মাংসে ঢেকেছিস
বডিখানা, ওফ কী তোল্লাই, সেই তুই, অ্যাঁ, ভেতোপান্তা !
এখন স্প্যাঘেটিস্ট্র্যাপে মলের এসকালেটরে উঠে খুঁজছিস
নতুন শিকার ; পেয়ে যাবি, তুই যা চিজ একখানি—
কেন বলতো ? না না চুমু খেয়ে ‘পারভার্ট’ বলে গাল
দিয়েছিলি বলে নয় । যেসব খুশবুদার মানেহীন নিঃশ্বাস
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে তুই দিয়ে কেটে পড়েছিলি, তার খেসারত
দিবি তুই, হ্যাঁ, তুই তুই তুই তুই দিবি । পড়েছি দুচোখে তোর
কোন কোন পুরুষের কোন অংশে ঠেকিয়েছিলিস জিভ
জড়াবার আগে-পরে, ঘুমন্ত ঘামের স্বাদ, স্কচে-ডোবা তাপ
বারান্দা থেকে ছুঁড়ে মেঘেতে ওড়ানো বাসি ট্যামপুনের সাথে
কোনো পদ্য-প্রেমিকের লক্ষাধিক ধাতুবীজে রচিত অক্ষর !
প্রেম ফেরে, ফেরে না
ভরপুর সন্ধ্যায় তোকে দেখলুম অবন্তিকা প্রেমের মৌতাতে ঝিমিয়ে
চুয়াল্লিশ বছর আগের ধুলো আর শুকো ঘাস আজও তোর বুকে-পিঠে
সারা গায়ে দাগড়া-দাগড়া চাঁদের দোষ, আহা, পূণ্যের ফল
ঢেউ তুলে কাঁপছিস পেটে হয়তো কৃমির জটিল ঘূর্ণির পাক
স্বর্ণলতার চুল তোর দু-কাঁধ বেয়ে কোমরে নেমেছে
রাস্তার মাইল-পাথরের ওপর বসেছিলিস উদোম উলঙ্গ মাঘতৃতীয়ায়
মৃত্যুর পথপ্রদর্শকরা মশা হয়ে তোর মাথার ওপর ডেথ মেটাল গাইছিল
কোন প্রেমিক তোকে শেষ বার ফেলে পালিয়েছে তোর মনে নেই
বললুম, ‘অবন্তিকা তোর সেই ৯-এমএম পিস্তলটা আছে ?
যেটা দিয়ে আমায় খুন করেছিলিস ?’
তোর জাদুময়ী হাতে বাতাস থেকে পিস্তলটা নামিয়ে আনলি
পরপর সবকটা গুলি আমার ফুসফুসে খালি করে বললি, ‘এই তো !’
বুকের ভেতর গেঁথে থাকা চুয়াল্লিশ বছর আগের
গুলিটা বের করে তোর অদৃশ্য হাতে দিলুম–
বললি, ‘ভালো, আরেকবার তাহলে দেখা হবে’
বাসন মাজা
রবীন্দ্রনাথ, আপনি কখনও বাসন মাজেননি সেটা জানি
কেননা আপনি তো গুরুদেব যাঁরা বল্মীকের ভেতরে থাকেন
বুদ্ধদেব বসু মহাশয়, রান্নাপটু, উনিও মেজেছেন কিনা সন্দেহ
জীবনানন্দ বউকে একই সঙ্গে ভালো ও খারাপ বাসতেন
ডায়েরিতে আইনস্টাইনি ফরমুলায় বলেননি বাসন মাজার কথা
এবং বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন দত্তেরা জানি না জানতেন কিনা
কাজের মেমরা এসে কোথায় বাসন মাজেন ! অলোকরঞ্জন থাকেন
অর্ধেক বিদেশে আর বাকি হাফ দেশে ; আলোক সরকারও
হয়তো জানতেন না বাজারে এসে গেছে বাসন মাজাকে কবিতার চেয়ে
সহজ করার জন্য ঝুরোসাবান তারের নানান জালিকা।
মহিলা ও পুরুষ কবিদের এটাই তফাত— অনেকে জানে না ।
আমি আর দাদা শৈশব থেকে শিখেছি বাসন মাজার কারিকুরি
এখন তা কাজে দিচ্ছে ; বুড়ি তো ঝুঁকতে পারে না, আমি পারি
এই বয়সেও রোজই বাসন মাজি ফুলঝাড়ু দিই বুঝলেন আলবেয়ার ক্যামু
গারসিয়া মার্কেজ— প্লেগ নয়, করোনা ভাইরাসের দিনে বুড়ো-বুড়ি প্রেম!