বগুড়ায় ৮৭ টাকার স্যালাইন (হার্টম্যান এইচএস) ৫১০ টাকায় বিক্রয় করায় তাওফিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জিক্যাল নামক প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা ও ওষুধের মূল্য তুলে ফেলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ওষুধ মার্কেটে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রেজভী।
ইফতেখারুল আলম রেজভী জানান, সম্প্রতি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক শহরের বিভিন্ন স্থানে এইচ এস হার্ডম্যানসহ বিভিন্ন ইনজেকটেবল ও অন্যান্য স্যালাইনের মূল্য মোড়কের মূল্যের চাইতে বেশি নিচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শহরের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের পাশে একজন ভোক্তা জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তিকৃত সড়ক দুর্ঘটনার রোগীর জরুরি প্রয়োজনে একটি ইনজেকটেবল স্যালাইন প্রয়োজন হয়। এসময় তিনি শজিমেক হাসপাতালের সামনে ওষিধের দোকানসমূহে গেলে দালালচক্র তাকে তাওফিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জিক্যাল নামক দোকানে নিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি তার নিকট হতে ৮৭ টাকার স্যালাইন ৫১০ টাকা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগীকে নিয়ে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট দোকানে গেলে দোকানি বিষয়টি বুঝতে পেরে দোকান রেখে পালিয়ে যায়।
সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়িগণ অভিযোগ করেন, একটি সক্রিয় দালালচক্র তাদের স্যালাইন বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ রাখতে বাধা দেয়। স্যালাইন বা এ জরুরি প্রয়োজনের ওষুধসমূহ নির্দিষ্ট কিছু দোকানে রাখা হয় এবং দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপদাপন্ন অবস্থায় ইচ্ছেমতো মূল্যে বিক্রি করা হয়। এসময় তাওফিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জিক্যাল নামক ওষুধের দোকানকে এ অভিযোগের ভিত্তিতে সিলগালা করা হয়।
অপর ওষুধের দোকান মজনু ফার্মেসিতে ওষুধসমূহের মূল্য বিশেষভাবে তুলে ফেলা হয় যাতে অধিক মূল্য গ্রহণ করা হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের এধরনের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যাবলি চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।