সহানুভূতি পেতে বিদেশিদের বিভ্রান্ত করে বিএনপি

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফির কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন কূটনীতিকদের বলেছেন, সহানুভূতি পেতে বিএনপি প্রায়ই কূটনৈতিক মিশন এবং বিদেশি বন্ধুদের বিভ্রান্ত করে।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের ‘২৮ অক্টোবর’ নিয়ে ব্রিফ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, স্পেন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইইউ, জাতিসংঘ, ওআইসি, বিমসটেকসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঢাকার পক্ষে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ে কূটনীতিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সহানুভূতি পাওয়ার জন্য প্রায়ই কূটনৈতিক মিশন এবং আমাদের বিদেশি বন্ধুদের বিভ্রান্ত করে। হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম বিএনপির কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের পাশে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তথাকথিত এক উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে জানা গেল তিনি একজন প্রতারক এবং তিনি স্বীকার করেছেন বিএনপি নেতারা তাকে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে প্ররোচিত করেছেন।’

কূটনীতিকদের ব্রিফিং নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি দলমত-নির্বিশেষে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার সুযোগ পাচ্ছে। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে কারও বক্তব্য দেওয়ায় বাধা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো দলের না। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

ড. মোমেন বলেন, ‘শান্তির নামে তারা প্রলয়ংকরী ঘটনা ঘটায়। পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করা জাতির জন্য লজ্জাকর। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণ অস্বাভাবিক। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এসব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি হওয়া উচিত। বিএনপির লোকরা দেশে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে চাচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বদল হয়। এ সরকার শাসনতন্ত্র অনুযায়ী চলছে। রামরাজত্ব কায়েম করে কোনো কিছু হাসিল হবে না। বিএনপির দুদিনের সহিংসতার কথা রাষ্ট্রদূতদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে বিএনপি জো বাইডেনের নকল উপদেষ্টা বানিয়ে দুর্নাম করছে সেটি জানানো হয়েছে।’

মোমেন বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) থেকে তিন দিন দেশব্যাপী অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আমরা শুধু নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির ওপর আক্রমণ আশা করি না। তবে আইনশৃঙ্খলার দিকটি ছাড়াও হরতাল এবং অবরোধের একটি অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকও রয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের বক্তব্য তাদের জানানো হয়েছিল। ওনাদের কাছ থেকে কোনো বিবৃতি আশা করি না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘গণমাধ্যমে আসা তথ্যের ওপর তাদের ব্রিফ করা হয়েছে। অভিব্যক্তি দেখে মনে হয়েছে স্তব্ধ হয়ে গেছেন কূটনীতিকরা। তাদের পুরো তথ্য লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে। সাত রাষ্ট্র মিলে যে বিবৃতি দিয়েছে, অতীতের বিবৃতির সঙ্গে সেটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে এলে প্রচলিত সব বিধিনিষেধ মেনে আসতে হবে। তবে আগ বাড়িয়ে বিবৃতি দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।’