সিলেটে বিএনপির অবরোধে পিকেটিংকালে পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতা জিলু আহমদ দিলু (৪০) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। নিহত গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। জিলু গোলাপগঞ্জ উপজেলার মদনগৌরী গ্রামের এলাই মিয়ার ছেলে।
আজ মঙ্গলবার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় জিলু মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, জিলু মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত চলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
এদিকে জিলু নিহতের ঘটনায় আগামীকাল বুধবার (১ নভেম্বর) সিলেট বিভাগে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে যুবদল। সন্ধ্যায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথ বিবৃতি দিয়ে এই হরতালে সমর্থন দিয়ে বলেছে, চলমান অবরোধের পাশাপাশি বুধবার সিলেট বিভাগে হরতাল পালিত হবে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় জিলু আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। এরপর পুলিশের হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, অবরোধ পালনে মঙ্গলবার সকালে ৮-১০টি মোটরসাইকেলে জিলু আহমদ দিলুসহ যুবদল নেতাকর্মীরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের লালাবাজারে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্রুত পালাতে গিয়ে জিলুর মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকাল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জিলুর সঙ্গে থাকা সালাহ উদ্দিনও আহত হয়েছেন। সালাহ উদ্দিন দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ জানান, জিলুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এরপর বিকালে তার মৃত্যু হয়। জিলুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় জিলু আহত হওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যু হয়েছে।
জিলুর মৃত্যুর জন্য পুলিশ দায়ি নয় দাবি করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, নিছক দুর্ঘটনায় জিলুর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা দাবি করেন, জিলুর ভাই বুলু পুলিশকে জানিয়েছেন, তার ভাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।