গাজার অপরিপক্ব শিশুদের নিয়ে চিন্তিত মায়েরা

গাজায় নবজাতক তালিয়ার ফুসফুস সচল রেখেছে ভেন্টিলেটরের অক্সিজেন। পাশে রাখা মনিটরের পর্দায় অপরিপক্ব শিশুটির হৃৎপিণ্ডের দুর্বল সঞ্চালন-প্রসারণের চিত্র ভেসে উঠছে। গত ৭ অক্টোবর হামাস যখন ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা করে বসে, ঠিক তার আগের দিন জন্ম হয় তালিয়ার। যুদ্ধকবলিত গাজার হাসপাতালগুলোতে তালিয়ার মতো অনেক নবজাতকের জীবন শঙ্কার মুখে। কারণ ইসরায়েলি অবরোধে হাসপাতালগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না। 

গাজার খান ইউনিস এলাকার নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তালিয়া। চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে চিন্তিত, কারণ তার ফুসফুস এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। গাজার অনেক মা-ই এখন তাদের অপরিপক্ব শিশুদের নিয়ে চিন্তিত। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে দিন পার করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেলে ইলেকট্রিক ভেন্টিলেটরে থাকা শিশুরা নির্ঘাত মারা যাবে। জ্বালানি সংকটের কারণে এরই মধ্যে গাজার একমাত্র ক্যানসার হাসপাতাল বন্ধ হয়েছে।

নাসের হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আসাদ আল-নাওয়াজা বলেন, ‘নবজাতকদের মৃত্যুর শঙ্কাটি ব্যাপক ভীতির এবং উদ্বেগের। আমরা নবজাতক শিশু, অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিদের জীবনরক্ষার স্বার্থে হাসপাতালের জেনারেটর সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে অনবরত দাবি জানিয়ে যাচ্ছি।’  

নাসের হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের ১০টির মতো নবজাতক রয়েছে যারা প্রত্যাশিত সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হয়। গাজা উপত্যকা জুড়ে প্রায় ১৩০টির মতো নবজাতক সার্বক্ষণিক ইনকিউবেটর সেবার আওতায় রয়েছে। জেনারেটর পরিষেবা বন্ধ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, কয়েক মিনিটের মধ্যে এসব শিশুর মৃত্যু। 

তালিয়ার ২৫ বছর বয়সী মা নামার আওয়াদ বলেন, মেয়ে সন্তানটি তার কাছে ছিল ‘স্বপ্নের মতো’। তবে তার জন্মটা ভালো হলো না এবং এখন তার অবস্থা ভালো নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভয়ে রয়েছে, কখন জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। আমি চাই, যুদ্ধ বন্ধ হোক।  আমি আমার কন্যাকে বাড়ি নিতে চাই যেখানে তার বাবা ও ভাইয়েরা তার জন্য অপেক্ষা করছে।’

জাতিসংঘ জানায়, বর্তমানে গাজায় ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছে। প্রতিদিন ১৬০টির বেশি প্রসব হচ্ছে। জন্মগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে ১৫ শতাংশই কোনো না কোনো জটিলতায় আক্রান্ত।