ট্রেন না থামানোয় স্টেশন ইনচার্জসহ ৬ জনকে মারধর

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিরতিহীন ট্রেন না থামানোয় স্টেশন ইনচার্জসহ রেলের ছয় কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মারধরে আহত হয়েছেন, জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন ইনচার্জ মো. হানিফ আলী, রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মী রাশেদ ম-ল, রাসেল হাওলাদার, আব্দুল মজিদ, মনির হোসেন ও মোশাররফ হোসেন। তাদের মধ্যে স্টেশন ইনচার্জ মো. হানিফ আলীকে চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোরেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য গাজীপুর থেকে শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা যে সময় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ওই সময় কোনো ট্রেন না থাকা এবং আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে উঠতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।

স্টেশন ইনচার্জ হানিফ আলী জানান, সমাবেশে ঢাকায় লোকজন যাচ্ছিল। তাদের জন্য কোনো ট্রেন রিজার্ভ ছিল না। গফরগাঁও, টাঙ্গাইল, হাইটেক সিটি, মহেড়া রিজার্ভ করে নিয়ে গেলেও জয়দেবপুর থেকে কোনো রিজার্ভ ট্রেন ছিল না।

ওনারা যে সময় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তখন শুধু চাঁপাই এক্সপ্রেস ছিল। ঢাকার কন্টোল থেকে বলা হয়েছিল ৪টার পর থেকে ট্রেনটি আবার চালাবে। কিন্তু ৪টার পর তারা ঢাকায় গেলে সমাবেশে যেতে পারবে না, বাকি ট্রেনগুলো থামবেও না। ওদের দাবি ছিল রিজার্ভ করা ট্রেন থামিয়ে তাদের তুলে দেওয়ার, কিন্তু রিজার্ভ করা ট্রেনের লোকদের আপত্তির মুখে রিজার্ভ ট্রেনগুলোও থামানো যাচ্ছিল না।

এ সময় টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের ভাড়া করা টাঙ্গাইল স্পেশাল ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে দিলেও তাদের ওই ট্রেনে উঠায়নি।

বিষয়টি ট্রেনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস থামিয়ে নেতাকর্মীদের তুলে দিতে বলেন। ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস থামানো হলেও অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড় থাকায় তারা উঠতে পারেনি। এরপরই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্য স্টেশন মাস্টার মুন্না বণিক জানান, মারধরের পর স্টেশন মাস্টার হানিফ আলীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮১২ নম্বর রুমে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমরা আন্তরিক ছিলাম তাদের ট্রেনে তুলে দিতে।

হঠাৎ নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি বাইরে থাকলে হয়তো আমাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া লাগত।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর মেট্রো থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, এ বিষয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।