গাজায় এখন ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করছে। প্রায় মাসব্যাপী সময় ধরে চলা সংঘাত এরই মধ্যে ১০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনির প্রাণ হরণ করেছে। কিন্তু ইসরায়েলি আগ্রাসন গাজাকে আরও রক্তাক্ত করতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তারা মনে করছেন, প্রত্যাশিত মাত্রায় হামাসের সুড়ঙ্গ যোগাযোগ ধ্বংস করতে পারেনি ইসরায়েল। অন্যদিকে হামাসও পাল্টা প্রতিরোধযুদ্ধে টিকে রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের ক্রমাগত বোমাবর্ষণে বেসামরিক স্থাপনা, জাতিসংঘের স্থাপনা ও হাসপাতালও রেহাই পাচ্ছে না। হামাসকে ধ্বংস করতে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বোমা ফেলা শুরু করেছে তারা।
এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনো ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বাড়িগুলোতে নজরদারি শুরু করেনি এবং হামাসের দুর্ভেদ্য সুড়ঙ্গগুলোর পরিপূর্ণ হদিস তারা পায়নি। সম্ভবত ইসরায়েলি বাহিনী ধীরগতির পথ বেছে নিয়েছে। ভারী সাঁজোয়া যানে আরোহণ করার পরিবর্তে সেনারা সরঞ্জাম নিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সরবরাহ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাজা শহরের একটি ম্যানহোল পরীক্ষা করে দেখছে ইসরায়েলিরা। এ সময় সেনারা একটি সুড়ঙ্গের মুখও উন্মোচন করে।
এর দ্বারা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল সম্ভবত শত শত সুড়ঙ্গ কেবল শনাক্ত করেছে এবং সুড়ঙ্গে ঢোকার হাজার হাজার পথ বের করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা এখন হামাসের অবস্থান ধ্বংস, জিম্মিদের উদ্ধার এবং সুড়ঙ্গ যোগাযোগ ধ্বংসের কাজ চালাতে অগ্রসর হচ্ছে।
গত ২৫ অক্টোবর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দেন, ‘হামাসকে নির্মূল করাই অভিযানের উদ্দেশ্য।’ কিন্তু চলতি যুদ্ধে ইসরায়েল হামাসকে নিশানা করতে গিয়ে ক্রমাগতভাবে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ পরিচালনা করে যাচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ গাজার কয়েকটি জায়গায় আলাদা স্থল অভিযানে নামে। এতে হেলিকপ্টার থেকে বন্দুক ব্যবহার করা হয়। এ সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনীও সমানভাবে অভিযানে অংশ নেয়। তারা জানায়, সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো, হামাসের নৌ কমান্ড দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত অভিযানের পরদিন ২৮ অক্টোবর ইসরায়েল ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে হামাসের হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের অর্জন কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এসব আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে হামাস এবং ইসরায়েল কেউই হামলা ও পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে অতীতের কৌশল অবলম্বন করছে না।
এ বিষয়ে ইতালিভিত্তিক লুমসা মাস্টার স্কুলের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের অধ্যাপক মেট্রো ব্রেসান বলেন, হামাস একাধারে ৬ হাজার রকেট ছুড়তে পারে। এটি তাদের সক্ষমতা, যা আগে দেখা যায়নি। মূলত হামাসের নতুন সক্ষমতার প্রশ্নটি সামনে আসায় ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার ধরন বদলে গেছে। বিষয়টি মোটেই সাধারণ নয়, সহজও নয়। এই অভিযানে আরও সময় লাগবে ইসরায়েলের।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডার ডিমেট্রিস অ্যান্ড্রু গ্রিমস বলেন, হামাসের রকেটের বহু ব্যাটারি গাজার নিচে সুড়ঙ্গে এখনো মজুদ রয়েছে। হামাসকে পুরোপুরি নিঃশেষ করার চেষ্টা ব্যাপকভাবে চ্যালেঞ্জিং। বরং তিনি মনে করেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা হারিয়েছে।
এ অবস্থায় হামাস দাবি করছে, তারা ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ইয়াসিন-১০৫ দ্বারা গত বুধবার পর্যন্ত ইসরায়েলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চারটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া হামাসের সামরিক শাখা বলছে, তারা স্থল সেনাদের রুখতে সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।