ডলারে-আগুনে ব্যবসার সর্বনাশ

দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সৃষ্ট ডলার সংকট দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। ডলারের সঙ্গে এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক হরতাল-অবরোধ ও ন্যূনতম মজুরিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের আন্দোলন চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই দ্বিমুখী সংকটে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার পাশাপাশি কারখানা চালু রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো গত ২৯ অক্টোবর থেকে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে। অবরোধের প্রথম তিন দিনে অন্তত ৩০টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথম দিনে ও আগের রাত মিলিয়ে আরও কমপক্ষে ১৩টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুন ও ভাঙচুরের আতঙ্কে কয়েকটি মহাসড়কে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সারা দেশের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল কমে গেছে। ফলে সরবরাহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো। তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর জন্য বিপদ দুদিক থেকেই আসছে। একদিকে হরতাল-অবরোধের কারণে সরবরাহজনিত সংকট, অন্যদিকে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন। ফলে অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে করে ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুত পণ্য পাঠাতে সমস্যায় পড়ছে খাতটি। এর ফলে রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের হিস্যাধারী খাতটি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে হয়তো চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কিন্তু নির্বাচন কেন্দ্র করে যে আন্দোলন চলছে তা যদি দীর্ঘ সময় চলে, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যে যে ক্ষতি হবে, তা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই দেশের জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার প্রভাবও ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমনিতেই রাশিয়া-যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আমাদের রপ্তানি আদেশ কমে গেছে। উৎপাদনমুখী শিল্প চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে রাজনৈতিক সংকট ও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে।’ তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে ডলার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যে ক্ষতি হবে, তা পূরণে বছরের পর বছর লেগে যাবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট সংকটের পর থেকেই বাংলাদেশের ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ আমদানি ব্যয়, স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিময় হারে রাতারাতি পরিবর্তন ঘটছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে যেসব কোম্পানির বিদেশি ঋণ রয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্যের কাঁচামাল বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর। যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ওই সময়ে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ ছিল, সেসব ঋণ পরিশোধে কোম্পানিগুলোকে এখন ৩০ শতাংশ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, বিশেষ করে যাদের বিদেশি মুদ্রায় আয় নেই।

ডলার সংকটের প্রভাবে কোম্পানিগুলোর বাজে পরিস্থিতির সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হতে পারে সরকারি মালিকানাধীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে লাভজনক এ কোম্পানিটি চলতি বছরে ব্যাপক লোকসানে পড়েছে। পরিচালন কার্যক্রম ভালো লাভ থাকলেও বিনিময় হারের লোকসানে তা মিলিয়ে গেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো, যাদের বিদেশি ঋণ রয়েছে সেগুলোর সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে করে এসব কোম্পানির মুনাফায় ধস নেমেছে। এ ছাড়া কাঁচামাল আমদানিনির্ভর যেসব প্রতিষ্ঠান পণ্যমূল্য আনুপাতিক হারে বাড়াতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানও বিপদে পড়েছে। মুদ্রাবিনিময় হারে লোকসান সামলাতে পারছে না।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড এখনো ২০২২-২৩ হিসাব বছরের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে ওই হিসাব বছরের ৯ মাসেই মুদ্রাবিনিময় হারে কোম্পানিটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯১১ কোটি টাকা, যা চূড়ান্ত হিসাবে আরও বাড়বে। বিনিময় হারের কারণে প্রথমবারের মতো কোম্পানিটি নিট লোকসানে পড়ল। বিদেশি মুদ্রাবিনিময় ও ঋণের সুদ মিলিয়ে ওই ৯ মাসে কোম্পানিটির আর্থিক লোকসান হয়েছে ১ হাজার ২৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ফলে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ৮১৮ কোটি টাকা লাভ থাকলেও কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ৩৩১ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ২৭৯ কোটি টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণ হচ্ছে ২২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ রয়েছে ১২ বিলিয়নের বেশি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও দুর্বল চাহিদার কারণে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবসা প্রভাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসেল পার্টনার্স। সম্প্রতি দেশের ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে ২৫টিরও বেশি খাতের বহুজাতিক, স্থানীয় বড় কোম্পানি, স্টার্টআপ ও এসএমই খাতের ১৬৭টি কোম্পানি নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে এ তথ্য উঠে এসেছে। টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ছাড়াও আর্থিক অনিয়ম, উচ্চখেলাপি, নগদ ঘাটতি ও সঞ্চয় হ্রাসের ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং কর্মক্ষম নগদ প্রবাহের ঘাটতি কোম্পানিগুলোকে পরবর্তী ছয় মাসে তাদের উচ্চ লাভের আশা ত্যাগ করতে হবে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) বিদেশি ঋণ রয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বিদেশি এই ঋণই এখন কোম্পানিটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশ থেকে সস্তায় নেওয়া ঋণ এখন শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে এ কোম্পানিটি ৫৪১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে, যার মধ্যে ৪২৮ কোটি টাকা হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ নিয়েছে ডেসকো।

মুদ্রাবিনিময় হারে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ১১২ কোটি টাকা লোকসান করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের। এর ফলে উল্লিখিত হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৬১ শতাংশ কমে গেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বড় অঙ্কের অবমূল্যায়ন ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিময় হারে লোকসান বেড়েছে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা।

মুনাফা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ আমজাদ শাকিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূলত আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিট মুনাফায় প্রভাব ফেলেছে। বিনিময় হারের লোকসান ও সুদ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানির আর্থিক ব্যয় ১৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে মুদ্রাবিনিময় হারের লোকসান বেশি প্রভাব ফেলেছে।

বিদেশি মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করায় অনেক বেসরকারি কোম্পানিও বর্তমানে ক্ষতির সম্মুখীন। ডলারের বিপরীতে টাকার তীব্র অবমূল্যায়নের পাশাপাশি বিলম্বিত এলসি পেমেন্ট সেটেলমেন্টের কারণে এ ধরনের ক্ষতি বাড়ছে বলে খাত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক মাস ধরেই বিদেশি মুদ্রার লেনদেন ও সুদহার বাজারভিত্তিক করার ওপর চাপ দিয়ে আসছে উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। দেশীয় অর্থনীতিবিদরাও একই ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর ফলে ডলারের মূল্য ও সুদহার আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার প্রভাবে ক্ষতির মুখে থাকা ব্যবসা-বাণিজ্য আরও চাপে পড়তে যাচ্ছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এসিআই লিমিটেড মুনাফা থেকে লোকসানে পড়েছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৮৯ কোটি টাকা মুনাফায় ছিল।

দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রির পাশাপাশি মুনাফাও কমেছে। চলতি বছর ওয়ালটনের বিদেশি মুদ্রাবিনিময়ের ক্ষতি ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিময় হারে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ৪৬৯ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩০৪ কোটি টাকা। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফা সংকুচিত হয়েছে। এ সময় কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ১৯ শতাংশ।

ওয়ালটনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া এবং দেশে ডলারের তীব্র সংকটের কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরটি শুধু ওয়ালটনের জন্যই নয়, সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও বিনিময় হারে ব্যাপক লোকসানে ইস্পাত খাতের অন্যতম কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাতের নিট মুনাফা ৮৩ শতাংশ কমে গেছে।

ডলারের কারণে কাঁচামাল ও জ্বালানির খরচ বেড়ে গেলেও উৎপাদিত সব ওষুধের দাম বাড়াতে পারেনি ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রেনেটা লিমিটেড। ফলে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা প্রায় ৫৫ শতাংশ কমে গেছে। অটোমোবাইলস খাতের অন্যতম কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। এ বছর তারা কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিবিএস কেবলসের ইপিএস আগের বছরের ৩ টাকা ৮১ পয়সা থেকে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে মাত্র ৪৬ পয়সায় নেমেছে। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। একই অবস্থান নাহি অ্যালুমিনিয়াম, বিডি ল্যাম্পস, বিকন ফার্মা, মতিন স্পিনিং, বেক্সিমকো লিমিটেড, জেএমআই হসপিটাল অ্যান্ড রিক্যুইজিটের।

বর্তমানে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘ মেয়াদে অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে নিশ্চিতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়বে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পূর্বাভাস দিয়েছে। ধাপে ধাপে ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। আর তেলের দাম যদি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।