কারচুপির অভিযোগে দুই উপনির্বাচনের গেজেট স্থগিত

অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে। ফলে এই দুই আসনের ফলাফলের গেজেট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব জাহাংগীর আলম।

ইসি সচিব বলেন, গণমাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের একটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ভোটকেন্দ্রের কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ইসি সেটির বিশ্লেষণ করেছে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। সরেজমিন তদন্তের পর তারা যে প্রতিবেদন দেবে, তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, আইনে আছে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে, কমিশন গেজেট প্রকাশ স্থগিত রেখে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিতে পারে। সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন নির্বাচন বাতিল বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করতে পারে।

এর আগে গত রবিবার নির্বাচনে কারচুপি, এজেন্ট বের করে দেওয়া ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সকাল থেকে কেন্দ্রে অবস্থান করে জাল ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে একের পর এক সিল মারছেন। যিনি সিল মেরেছেন তার নাম আজাদ হোসেন। তিনি লক্ষ¥ীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তবে সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করে জেলা ছাত্রলীগ। পরে বিষয়টি ইসির নজরে আসে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ, আজাদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে তিনি এটা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ রাকিব হোসেন, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের  মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. সামছুল করিম ও আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম মাহমুদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম ফারুক পিংকু ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।  ভোট পড়ে ৩১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৬ ভোট।

একইভাবে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে। এই আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক এ অভিযোগ তোলেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।  আসনটিতে উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৩৭ হাজার ৫৫৭ ভোট।

এ ছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে ৩ হাজার ১৮৬, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম গোলাপ ফুল প্রতীকে ৫৬১ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. রাজ্জাক হোসেন আম প্রতীকে লড়ে পেয়েছেন ৭৩৯ ভোট।