শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নিভল ৭ প্রাণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় এক পরিবারের তিন শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের বোর্ড স্কুল এলাকায় এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশা চালকসহ দুজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অটোরিকশা চালককে দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ময়মনসিংহে সোমবার মধ্যরাতে বেপরোয়া গতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বিলবোর্ডের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বিলবোর্ড উল্টে বাসের ওপর পড়লে প্রাণ হারান চারজন। আহত হন ৪০ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, চন্দনাইশের সাতবাড়িয়ার গ্রাম থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর গ্রামে এক আত্মীয়ের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল পরিবারটি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের হাটহাজারীর চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রাম শহরগামী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় তিন শিশুসহ সাতজন। নিহতরা হলো, চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের সচিন্দ্র দাশের স্ত্রী চিনু রানী দাশ (৪৫) এবং তার ছেলে বিপ্লব দাশ (২৭)। সচিন্দ্র দাশের ভাই নারায়ণ দাশের স্ত্রী রীতা রানী দাশ (৩৪) এবং তার চার সন্তান যথাক্রমে শ্রাবন্তী দাশ (১৭), বর্ষা দাশ (১০), দ্বীপ দাশ (৪) ও দিগন্ত দাশ (৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সচিন্দ্র দাশের ছেলে বাপ্পা দাশ (৩১) ও অটোরিকশাচালক বিপ্লব মজুমদার। আহত বিপ্লব ফটিকছড়ি উপজেলার বৈদ্যারহাট এলাকার নেপাল মজুমদারের ছেলে।

পুলিশ আরও জানায়, উপস্থিত লোকজন আহত বাপ্পা ও সিএনজিচালক বিপ্লবকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিপ্লবকে দুপুর আড়াইটার দিকে চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশগুলো উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের উভয় দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অটোরিকশাটি সঠিক লেনেই চলছিল। কিন্তু বাসটি আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ভুল লাইনে ঢুকে পড়ে এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।’

এদিকে সরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্সে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক বিপ্লব মজুমদারকে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময় দেখা যায়, তার মাথায় ব্যান্ডেজ মোড়ানো। সারা শরীর রক্তাক্ত। শুধু ‘ও মা’ ‘ও মা’ বলে কাঁদছিলেন তিনি। এ সময় তার স্ত্রী টুম্পা দাশ কোলের শিশু নিয়ে স্বামীর জন্য আহাজারি করতে থাকেন। জরুরি বিভাগে ঢোকানোর পর বিপ্লবকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

স্ত্রী সন্তান হারালেন প্রবাসী নারায়ণ : নারায়ণ দাশ ও রিতা দাশ ওরফে মায়া। তাদের সুন্দর সংসার, রয়েছে প্রথম মেয়ে শ্রাবন্তী দাশ (১৭) এসএসসি পরীক্ষার্থী, দ্বিতীয় মেয়ে প্রতিবন্ধী বর্ষা দাশ (১০) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যমজ ২ ছেলে দ্বীপ দাশ (৪) ও দিগন্ত দাশ (৪)। তাদের বাবা নারায়ণ দাশ থাকেন ওমানে। দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল নারায়ণ দাশের ৫ সদস্যের প্রাণ। দুর্ঘটনায় তাদের সংসারের স্বপ্ন ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

স্ত্রী-সন্তান সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন ওমানপ্রবাসী নারায়ণ দাশ। একই সঙ্গে সবাইকে হারিয়ে পাগলপারা হয়ে তিনি দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই বাবুল দাশ। তিনি বাড়িতে পৌঁছালে নিহতদের লাশের সৎকার করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চারিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কেড়ে নেয় তিন পরিবারের সাত প্রাণ। আহত হন তিনজন।

ঘটনার ১০ দিন আগে মারা যান রিতা দাশের নানি। মিষ্টি ও কাপড়চোপড় নিয়ে নানির মৃত্যু-পরবর্তী কর্মক্রিয়ার অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ির নানপুর যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের হাটহাজারী চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় চট্টগ্রাম শহরমুখী বাস আর ফটিকছড়িমুখী সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিন পরিবারের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের আত্মীয় ও স্বজন বাবুল দাশ, দিলীপ দাশ ও অঞ্জু দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিষ্টি ও কাপড়চোপড় নিয়ে নিহত রিতা দাশের নানির মৃত্যু-পরবর্তী কর্মক্রিয়ার অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সবাই মিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা এলাকা থেকে প্রথমে কর্ণফুলী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মইজ্জারটেক যান। সেখান থেকে আরেকটি অটোরিকশায় অক্সিজেন মোড়ে পৌঁছান। সেখান থেকে ফটিকছড়ি নানপুর পর্যন্ত অন্য একটি অটোরিকশা যোগে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পতিত হন।

বাংলা মোটরে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত : রাজধানীর বাংলা মোটর এলাকায় গতকাল রাত ১২টার দিকে ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। হাতিরঝিল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।