ওয়ানডের ইতিহাসে অসাধারণ ইনিংস আছে অসংখ্য। তবে গতকাল গ্লেন ম্যাক্সওয়েল যে ইনিংসটি খেললেন সেটাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম হয়ে যাবে। তার ডাবল সেঞ্চুরিটিকে সর্বকালের সেরা ইনিংসের মর্যাদা দিয়ে দিয়েছেন অনেকেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে বাজি ধরার লোক ছিল না বললেই চলে। প্যাট কামিন্সকে নিয়ে অসম্ভব কাজটিই সম্ভব করেন ম্যাক্সওয়েল। পিঠ ও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের সঙ্গে লড়াই গড়েন ওয়ানডে ইতিহাসে রান তাড়ায় প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি।
ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসটিই ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কিনা, সেটি নিয়ে এখন চলছে আলোচনা। ওই ইনিংসসহ ওয়ানডেতে আরও দারুণ কিছু ইনিংসের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।
১০. বেন স্টোকস, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল
ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ে সবচেয়ে বড় রেখেছিলেন বেন স্টোকস। লর্ডসে সেদিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ধুঁকছিল স্বাগতিকরা। স্টোকসের ৯৮ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাই করে তারা। পরে সুপার ওভারও টাই হলে বাউন্ডারি সংখ্যায় এগিয়ে থেকে শিরোপা যেতে ইংল্যান্ড।
৯. কপিল দেব, ১৯৮৩ বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ২৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৭ রানেই ৫ উইকেট হারায় ভারত। একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা দলটিকে একাই টানেন অধিনায়ক কপিল দেব। ম্যাক্সওয়েলের মতো এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৬ ছক্কা ও ১৬ চারে খেলেছেন ১৩৮ বলে ১৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস।
৮. হার্শেল গিবস, ২০০৬ জোহানেসবার্গ
ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড সেদিন গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রিকি পন্টিংয়ের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৪৩৪ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। হার্শেল গিবসের ১১১ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসে লক্ষ্যে পৌঁছে ইতিহাস রচনা করে প্রোটিয়ারা। গিবস পরে স্বীকার করেন, আগের রাতে ১টা পর্যন্ত মদ্যপান করায় ম্যাচের দিন ঘোরের মধ্যে ছিলেন তিনি।
৭. মার্ক ওয়াহ, ২০০১ মেলবোর্ন
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ১৪৮ বলে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেন মার্ক ওয়াহ। ওই সময় যা ছিল ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ। যা টিকে ছিল দীর্ঘ দিন। ২০১৮ সালে জেসন রয়ের করা ১৮০ রানের আগে মেলবোর্নে যা ছিল সর্বোচ্চ।
৬. মার্টিন গাপটিল, ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার-ফাইনাল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬৩ বলে ২৩৭ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন মার্টিন গাপটিল। কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের আগের রেকর্ডও ছিল এই ওপেনার, ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ১৮৯ রান। ২০১৫ বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১৪৩ রানে জিতে সেমিফাইনালে জায়গায় করে নেয় নিউজিল্যান্ড।
৫. ভিভ রিচার্ডস, ১৯৮৪ ম্যানচেস্টার
ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যানদের ছোট্ট তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবেন ভিভ রিচার্ডস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তির একটি ইনিংস স্মরণীয় হয়ে থাকবে সবসময়। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ম্যানচেস্টারে ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সে সময় সেটি ছিল সর্বোচ্চ ইনিংসের বিশ্ব রেকর্ড। ওই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছিলেন কেবল আর একজন।
৪. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ২০২৩ বিশ্বকাপ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে
আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে নেদারল্যান্ডসও দেখেছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের তাণ্ডব। সেদিন ৪০ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ান। ৮ ছক্কা ও ৯ চারে ৪৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
৩. এবি ডি ভিলিয়ার্স, ২০১৫ জোহানেসবার্গ
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে যেন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৩১ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে তিনি গড়েন ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ১৬ ছক্কা ও ৯ চারে ৪৪ বলে সেদিন ১৪৯ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান।
২. রোহিত শর্মা, ২০১৪ কলকাতা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ বছর আগের ওই ম্যাচে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছিল রোহিত শর্মা ‘শো’। ভারতীয় ওপেনার সেদিন একাই ২৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। ওয়ানডে ইতিহাসে যা ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। তার ১৭৩ রানের ইনিংস গড়া ছিল ৯ ছক্কা ও ৩৩ চারে। ওই ইনিংস দিয়ে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।
১. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ২০২৩ বিশ্বকাপ আফগানিস্তানের বিপক্ষে
প্রায় ৩০০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। অবিশ্বাস্য কিছু ছাড়া এই ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ছিল ক্ষীণ। সেটাই করে দেখান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চোটের সঙ্গে লড়াই করে, পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনীতে ১২৮ বলে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়েন ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি। তার নৈপুণ্যে ৩ উইকেটের জয়ে সেমিফাইনাল জায়গা করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এমন পারফরম্যান্সের জন্য এখন সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ম্যাক্সওয়েল।