শুঁটকির মৌসুম শুরু, সাগর পাড়ে শ্রমিকদের ব্যস্ততা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুঁটকি পল্লীতে এখন যেন দম ফেলার সময় নেই। শীতের বাজার ধরতে পল্লীতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। চার মাসের মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার রাসায়নিকমুক্ত শুঁটকি বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, শুঁটকি উৎপাদন করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা দেশে-বিদেশে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতের প্রথম বাজার ধরতে পল্লীতে চাং, বাসা ও দোকান নির্মাণে দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিকরা। আর এক দিন পরে পুরোদমে শুরু হবে শুঁটকি তৈরির কাজ, যা চলবে পরবর্তী সাড়ে চার মাস।

স্থানীয় শ্রমিক মো. ইউসুফ জানান, শুঁটকী পল্লীর মালিকরা শীতের প্রথম মৌসুম ধরবে। তাই পল্লীতে চাং, বাসা ও দোকান নির্মাণে দিনরাত কাজ চলছে। এখন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

তিনি বলেন, একটি পল্লী নির্মাণে প্রায় ১৮ দিন সময় প্রয়োজন হয়।  কেমিক্যালমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে শুঁটকি তৈরি করায় এখানে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

স্থানীয় শুঁটকি প্রস্তুতকারী সেলিম ডালি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পল্লীতে লইট্ট্যা, ফাইস্যা, ছুরি, ছোট চিংড়ি, ছোট পোয়া, রইস্যা, রূপচাঁদা, লাক্ষাসহ প্রায় ৩৫ জাতের মাছ শুঁটকি করা হয়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. বসির বলেন, এখানে সম্পূর্ণ কেমিক্যাল ও বিষমুক্ত শুঁটকি সরবরাহ করা হয়। সম্পূর্ণ বিষমুক্ত শুঁটকি সরবরাহ করতে ক্রেতাদের কুয়াকাটা লেম্বুর বন আসার আমন্ত্রণ জানান এই বিক্রেতা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরইমধ্যে কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। কুয়াকাটায় সবকিছু পরিকল্পিতভাবে করা হবে। যারা মাছ শুঁটকি করে থাকেন তারা বেশ অভিজ্ঞ। শুঁটকি প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতাদের একই ছাতার নিচে আনা হবে। প্রস্তুতকারীদের একটি স্থায়ী জায়গা দেওয়া হবে। যাতে বিশৃঙ্খলভাবে কেউ শুঁটকি না করতে পারে। কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।