কথায় কথায় প্যারাসিটামল খাচ্ছেন? শরীরে যেসব ক্ষতি হতে পারে

জ্বর, মাথা ব্যথার মতো সমস্যায় আমরা আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না। বরং এইসব সমস্যায় পড়লে চট করে প্যারাসিটামল গিলে ফেলতেই অভ্যস্ত আমরা। আর এই ‘ম্যাজিক ড্রাগের’ গুণেই চট করে কমে যায় জ্বর, মাথা ব্যথার প্রকোপ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জ্বর, মাথা ব্যথা, গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথার মতো সমস্যায় প্যারাসিটামল অত্যন্ত কার্যকরী এবং নিরাপদ ড্রাগ। তবে মুশকিল হল, অনেকেই সঠিক ডোজে এই ওষুধ খাচ্ছেন না। আর এই কারণেই তাঁরা প্যারাসিটামল ওভারডোজের খপ্পরে পড়ছেন। এমনকী তাঁদের পিছু নিচ্ছে একাধিক জটিল সমস্যাও। 

তাই আপনিও যদি একই 'ভুল' মাঝে মধ্যেই করে থাকেন, তাহলে বিপদ ঘটার আগেই প্যারাসিটামল ওভারডোজের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পর্কে বিশদে জেনে নিন।

প্রাথমিকভাবে যেসব লক্ষণ দেখা যায় 

কথায় কথায় প্যারাসিটামল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে প্রাথমিকভাবে আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে বমি বমি ভাব। এমনকী থাকতে পারে অস্বস্তি। এরপর ধীরে ধীরে বুকের ডানদিকের পাঁজরের তলায় ব্যথা শুরু হতে পারে। এমনকী ত্বক ও চোখ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে (জন্ডিস)।

আর কী কী উপসর্গ থাকে?

  • আশপাশে কী ঘটছে তা বুঝতে সমস্যা হতে পারে
  • ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কিডনি
  • প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে
  • সুগার ফলও করতে পারে
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের গতিবেগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিছু নিতে পারে অবসাদ।

দ্রুত চিকিৎসা জরুরি​

এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই রোগীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছাতে হবে। এরপর চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ শুনেই সমস্যা সম্পর্কে একটা আন্দাজ করে নিয়ে শুরু করে দেবেন চিকিৎসা। তবে ভালো খবর হল, ঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী একদম সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাই এই নিয়ে অহেতুক ‘হাইপার’ হয়ে লাভ নেই। বরং সচেতন হওয়াটা জরুরি।

যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

ছোটদের প্যারাসিটামল খাওয়ানোর আগে তার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। নইলে ডোজের এদিক-ওদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তাতেই বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে আপনার ছোট্ট সোনা। এদিকে প্রাপ্ত বয়স্করা ৬ ঘণ্টা অন্তর অন্তর প্যারাসিটামল খেতেই পারেন।