১৫৩৭ কোটি টাকায় পিকাসোর ‘ওম্যান উইথ এ ওয়াচ’

কিউবিজম ধারার চিত্রকর্মের জন্য বিশ্বখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর অন্যতম মাস্টারপিস ‘ওম্যান উইথ এ ওয়াচ’। সম্প্রতি দুর্লভ এই শিল্পকর্মটি নিলামে তোলা হয়েছিল। সেখানে এর দাম উঠেছে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। ফলে এটি হয়ে উঠেছে পিকাসোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি শিল্পকর্ম। এখন পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হওয়া পিকাসোর সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মটির নাম উইমেন অব আলজিয়ার্স। ২০১৫ সালে নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজে এটি বিক্রি হয় ১৭৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে।

এ সপ্তাহে নিলাম সংস্থা সোথেবির বিশেষ বিক্রয়ের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে আনা হয় ‘ওম্যান উইথ এ ওয়াচ’কে। এর আগে চিত্রকর্মটির দাম ছিল ১২ কোটি ডলারেরও বেশি। এত দিন পিকাসোর এই চিত্রকর্মটি এমিলি ফিশার ল্যান্ডউ নামে এক নারীর সংগ্রহে ছিল। এ বছর ১০২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তারপরেই নিলামে আনা হয় চিত্রকর্মটি। সোথেবির ইমপ্রেশনিস্ট ও মডার্ন আর্ট বিভাগের প্রধান জুলিয়ান ডাওয়েস পিকাসোর চিত্রকর্মটি ‘সবদিক থেকেই মাস্টারপিস’ বলে অভিহিত করেছেন।

১৯৩২ সালে আঁকা চিত্রকর্মটিতে ফরাসি মডেল ও পিকাসোর প্রেমিকা মেরি-থেরেসি ওয়াল্টারকে চিত্রিত করা হয়েছে। বলা হয়, মেরি ছিলেন পিকাসোর ‘গোল্ডেন মিউজ’ বা সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস। ১৭ বছর বয়সী মেরির সঙ্গে ৪৫ বছর বয়সী পিকাসোর সাক্ষাৎ হয় প্যারিসে। এরপর শুরু হয় তাদের গোপন প্রণয়। কারণ তখনো ইউক্রেনীয় ব্যালে নৃত্যশিল্পী ওলগা খোখলভার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন পিকাসো। মেরিকে নিয়ে আরও বেশি কিছু নামকরা চিত্রকর্ম তৈরি করে গেছেন বিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই চিত্রশিল্পী। তার বিখ্যাত আরেক চিত্রকর্ম ‘সিøপিং ওম্যান’ এর মডেলও মেরি। এটিও নিলামে উঠতে যাচ্ছে। 

বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সৃষ্টিশীলতায় পাবলো পিকাসোর কোনো জুড়ি নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মাস্টারের মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ উঠছে তিনি রুক্ষ, নারীদের প্রতি লালসা প্রবণ এবং জবরদস্তিমূলক  আচরণকারী ছিলেন।