যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। যেকোনো মূল্যে ২৯ জানুয়ারির আগেই নির্বাচন করতে হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বঙ্গভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। তফসিলের আগে সার্বিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার আনুষ্ঠানিকতা সারতে গতকাল বঙ্গভবনে যান সিইসির নেতৃত্বে ইসির অন্য সদস্যরা। এ সময় সিইসির সঙ্গে ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান।

তারা দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। পৌনে ১টার দিকে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা।

সিইসি এ সময় আরও বলেন, ‘দ্রুত আমরা তফসিল ঘোষণা করব, কারণ সময় হয়ে গেছে। আর নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা বলেছি, প্রথম সপ্তাহে বা দ্বিতীয় সপ্তাহে, আমরা এখনো ওই অবস্থায় আছি। আমরা বসে যখনই চূড়ান্ত করব, আপনাদের অবহিত করব।’

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমাদের এখানে আসার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে যে প্রস্তুতি গৃহীত হয়েছে সেটা অবহিত করা। আমরা রাষ্ট্রপতিকে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি অবহিত করেছি। তিনি শুনেছেন, সন্তুষ্ট হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আশা ব্যক্ত করেছেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে, সুশৃঙ্খলভাবে হবে, এ ব্যাপারে তার সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, আমরাও বলেছি, প্রয়োজনে আমরাও আপনার সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করব।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতা দিতে তিনি সদা প্রস্তুত থাকবেন। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক যে ধারাবাহিকতা, এটাকে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা তাকে জানিয়েছি, আমরা নির্বাচন কমিশন, আমাদের ওপর সাংবিধানিক যে দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে, সেখানে যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আমরা সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বদ্ধপরিকর। আমরা বলেছি, সব রাজনৈতিক দল সরকার এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করে যাচ্ছি।’

সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ হয়েছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সম্ভাব্য সময়সূচির বিষয়ে আমরা তাকে জানিয়েছি, যেটা তিনিও জানেন, ২৯ জানুয়ারির আগেই (নির্বাচন) করতে হবে। আমরা জানিয়েছি, নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে আমরা এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নিইনি। আমরা আজকে তার সঙ্গে মতবিনিময় করে গেলাম, আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়ে দেব।’

বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংলাপ নিয়েও কোনো কথা হয়নি। আমরা শুধু আমাদের কথা বলেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে নির্বাচন হয় সে ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছি।’

রাজনৈতিক মতানৈক্য নিয়ে এ সময় কোনো মন্তব্য করতে চাননি সিইসি। চার নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি ইসি সচিব এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

বঙ্গভবনের তরফ থেকেও আলাদাভাবে বৈঠকের বিষয়বস্তু জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি তাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন নির্বাহী বিভাগসহ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা।’

রাষ্ট্রপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এই লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’

সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে চলে।’

নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতের প্রতিফলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন এবং প্রতিনিধির মাধ্যমেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়ে থাকে।’

মো. সাহাবুদ্দিন আশা করেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে সিইসি জানান, ‘সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ বৈঠকের সময় রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ৩০ জানুয়ারি। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী এর আগে ৯০ দিনের মধ্যে ভোট হতে হবে। সেই হিসাবে গত ১ নভেম্বর নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা আছে।