আন্দোলন ঠেকানো ছেড়ে ভোট প্রস্তুতিতে আ.লীগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে পুরোপুরি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেও ঢিলেঢালা হয়ে গেছে কর্মসূচি। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মী পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ শুরু করে দিলে আন্দোলন মোকাবিলার কাজও হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মির্জা আজম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিকে খুব গুরুত্ব আওয়ামী লীগ কখনো দেয়নি। কারণ আমরা বিএনপির শক্তির খবর জানি।’

তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কাছে ও জনগণের কাছে আরও গুরুত্বহীন হয়ে গেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকার কারণে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিও ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভা শুরু করে দিয়েছেন। গত ৪ নভেম্বর ঢাকায় আরামবাগে জনসভার মধ্য দিয়ে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন তিনি। আজ কক্সবাজারে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্বোধন করে সেখানেও জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সপ্তাহে আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি। একটি নরসিংদীতে, অন্যটি খুলনায়। পরের সপ্তাহে সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের দরগাহ জিয়ারত করতে যাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সিলেটে জনসভার আয়োজনও রয়েছে। সারা দেশে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের দরজায় যাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। ব্যানার-পোস্টারে সয়লাব সারা দেশ।

এ নেতারা বলেন, বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না ক্ষমতাসীনরা। তাই পুরোপুরি নির্বাচনের প্রস্তুতি দিকে চলে গেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের বিশ্বাস, পুরোদমে সবাই মাঠে নেমে গেলে বিএনপিকে একপর্যায়ে আন্দোলন গুটিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনী উৎসবে আন্দোলন তলিয়ে যাবে। তখন আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে না বিএনপি।

নির্বাচনী জোয়ার সৃষ্টি করে বিএনপির আন্দোলন দুর্বল করে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতারা বলেন, সারা দেশে নির্বাচনী আমেজের মধ্যে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করা ছাড়া বিএনপির আর উপায় থাকবে না।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবারের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নেতাদের বলেছেন, বিএনপি শেষদিকে নির্বাচনে আসবে। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত তারেক রহমানের টাকার প্রয়োজন, এ সুযোগ তারেক হাতছাড়া করবে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে বিএনপি না এলে দলটির বড় অংশের নেতা ধরে রাখতে পারবে না। বিএনপি আন্দোলনে থাকলেও সুবিধা করতে না পারায় বিএনপিও পড়েছে বেকায়দায়।’

তারা দাবি করেন, বিএনপি মনে করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে একটি রাস্তা বের হবে। সরকারের অনমনীয় অবস্থান ও ২৮ অক্টোবরের ব্যর্থতা বিএনপির হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। শেষমেশ কোনো পথ বের না হওয়ায় বিএনপিও এখন আন্দোলনের চেয়ে বড় করে ভাবছে দল কীভাবে রক্ষা করবে। এদিকে নির্বাচনমুখী বিএনপি নেতাদের জন্য তৃণমূল বিএনপি একটি সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। এ অবস্থায় বিএনপির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ জটিল হয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনে আসা ছাড়া বিকল্প রাস্তাও তারেকের হাতে অবশিষ্ট নেই বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। সেজন্য দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসছে মাথায় রেখেই ভোটের কৌশল ঠিক করছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী হাতে সময় খুব কম। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যাপার রয়েছে। নির্বাচনী আসনে ভোটারদের দরজায় যেতে হবে। নির্বাচনী এলাকায় দলের পক্ষে বিভিন্ন কমিটি করতে হবে। তাই আওয়ামী লীগ মনে করে সময় বেশি নেই। ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে কেন্দ্র থেকে সারা দেশে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতির ফলে বিএনপির আন্দোলন হারিয়ে যাবে।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে, এটা আওয়ামী লীগ আগেও বলেছে, এখনো বলছে। আমরা এই মুহূর্তে নির্বাচনের ব্যাপারে বেশি মনোযোগী। বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে এখন কোনো আগ্রহ নেই। বিএনপির আন্দোলন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তবু আওয়ামী লীগ সতর্ক আছে জানিয়ে হানিফ বলেন, নেতাকর্মীরা পাহারায় আছে। অগ্নিসংযোগকারী-নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে তারা।