দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করায় আওয়ামী লীগ নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করছেন, নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখলেও শেখ হাসিনার সরকারকে টলাতে পারবে না। নির্বাচন নিয়ে আগে থেকে সরকার যে অবস্থান জানিয়ে আসছে সে অনুযায়ীই হবে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এখন যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ‘টু প্লাস টু’ (২+২) বৈঠকে নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বলে জানান দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে রয়েছে সেই আশা সব সময়ই রেখেছেন ক্ষমতাসীনরা। তবে এর আগে প্রকাশ্যে দেশটি অবস্থান পরিষ্কার করেনি।। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত তার অবস্থান জানিয়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগ এখন আত্মবিশ্বাসী।
দিল্লিতে সুষমা স্বরাজ ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব গিরিধর আরমানে। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভারত কী চায় তা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোয়াত্রা। ভারত বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা ঠিক করবে জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে সেটা অবশ্য তিনি জানাননি বা মন্তব্য করেননি।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যা থাকার কথা, তাই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আওয়ামী লীগকে নিরাশ করেনি। ভারতের অবস্থান আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা করে তুলেছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, ভারতের যে অবস্থান গণমাধ্যমে এসেছে প্রত্যাশার চেয়েও তা বেশি।
এ বিষয়ে দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের বিএনপির দাবি অবৈধ। এমন অবৈধ দাবির সঙ্গে আওয়ামী লীগ আপস করবে না। এর পক্ষে দেশি-বিদেশি যারা কথা বলবেন তাদের সঙ্গেও আপস হবে না। এটা আওয়ামী লীগের অবস্থান। ফলে যা হওয়ার কথা তাই হচ্ছে, হতে চলেছে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের খোলামেলা অবস্থান আওয়ামী লীগকে মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত সব পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের অনুকূলে রয়েছে।
তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যখন ব্যর্থ হয়েছে সরকার, তখন থেকেই দেশটির সুনজর পাবে না ধরে নিয়েই সব সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে চলতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাদে পশ্চিমা অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে মধ্যপন্থা আশা করেছে সরকারি দল।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা আরও বলেন, নির্বাচন শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোযোগ বাড়াবেন তারা। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে বড় কোনো অঘটন না ঘটলেই হলো। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে এটা আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। দেশটির অবস্থান পরিবর্তন হোক এ মুহূর্তে সেটাও চায় না আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটুকু আমি বুঝি যা হওয়ার কথা তাই ঘটছে। শেষ কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন করার যে অঙ্গীকার করেছেন নির্বাচন সেভাবেই হবে।’