মুন্সীগঞ্জ শহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস আয়োজিত হরতাল-অবরোধবিরোধী ‘শান্তি সমাবেশে’ দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজন আহত হয়েছেন ছুরির আঘাতে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় থানারপুল চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পঞ্চসার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও পঞ্চসার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ হাসান এবং মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেনের সমর্থক দলীয় কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ছুরিকাহতদের মধ্যে মোহাম্মদ সজলকে (২৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান। আরেক ছুরিকাহত মোহাম্মদ রুবেলকে (৩৭) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বিএনপি-জামায়াতের ‘অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে শহরের থানারপুল চত্বর এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও যুব মহিলা লীগের ব্যানারে ‘শান্তি সমাবেশের’ আয়োজন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। তিনি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ‘শান্তি সমাবেশে’ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘কর্মীদের দুপক্ষের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়েছে। বিষয়টি আমরা মীমাংসা করে ফেলেছি।’
অন্যদিকে পঞ্চসার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও পঞ্চসার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ হাসান বলেন, ‘চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মূলত দুপক্ষের মারামারি হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।’
সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি উপদলের অন্তর্কোন্দলে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’