নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার দাবি ট্যানারি শ্রমিকদের

ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান ইউনিয়নের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি শিল্প সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সরকার নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। তখন সর্বনিম্ন ৫ নম্বর গ্রেডে মূলমজুরি ও ভাতাদিসহ মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। গেজেটের শর্ত অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মূল মজুরি বৃদ্ধি করার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নিম্নতম মজুরি পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ট্যানারি শিল্পের মালিকরা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন করেনি। এদিকে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করা দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবনে নাভিশ্বাস ওঠায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ট্যানারি শিল্প সেক্টরের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং ট্যানারি শিল্পে নিযুক্ত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ করার জন্য গত ১৭ আগস্ট নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে সংশ্লিষ্ট শিল্প সেক্টরের অর্থাৎ ট্যানারি শ্রমিকদের কোনো প্রতিনিধি (সদস্য) রাখা হয়নি। যা শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গঠিত মজুরি বোর্ডে ট্যানারি শিল্প সেক্টরের প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে যাকে রাখা হয়েছে তিনি অন্য সেক্টরের এবং একটি জাতীয় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা। ট্যানারি শিল্প ও শ্রমিকদের সঙ্গে যার কোনো সম্পৃক্ততা নেই তিনি এ ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখবেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এ সময় তারা মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রম আইনের সব ধারা বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিকদের জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন, সরাসরি কারখানার মালিক কর্র্তৃক শ্রমিক নিয়োগ করাসহ ১২ দফা দাবি জানান।