জীবিত হালিমা খাতুন জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত

হালিমা খাতুন বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছেন। থাকছেন ছেলেদের সঙ্গে। তিনি জীবিত থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাকে দেখানো হয়েছে মৃত। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা সমাজসেবায় বয়স্ক ভাতার আবেদন করতে গেলে বিষয়টি জানতে পারে তার পরিবার। ফলে ভাতার কার্ড পাচ্ছেন না হালিমা খাতুন। বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি সাহায্য থেকে।

ইউনিয়ন পরিষদ বলছে, হালিমাকে জাতীয় পরিচয়পত্রে জীবিত দেখানো হোক, যাতে বয়স্কভাতা পেতে পারে। আর জেলা নির্বাচন কার্যালয় বলছে, হালিমা অফিসে আসলে জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক করে দেওয়া হবে।

বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হালিমা খাতুনের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের আইজউদ্দিন সিকদার কান্দি এলাকায়। স্বামীর নাম কাইয়ুম সিকদার। তার জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলেন হালিমা খাতুন। আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিতে পেরে সেদিন ফিরে এসেছিলেন তিনি। তখন অবশ্য বিষয়টি আমলে নেননি পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে সেখান থেকে জানানো হয় তিনি মৃত। ২০১৯ সাল থেকে অনলাইন সার্ভারের জাতীয় পরিচয়পত্রে তাকে মৃত দেখাচ্ছে। পরিচয়পত্রে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে পারলে বয়স্ক ভাতা মিলবে তার।

হালিমার ছেলের বউ ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমরা পরিবারে সাতজন লোক। স্বামী ভ্যানগাড়ি চালায়। তাই বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে গেলে তারা বলে, শাশুড়ি মারা গেছেন। শাশুড়িতো জীবিত। সরকার যদি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয় তাহলে পরিবার নিয়ে আমরা ভালো থাকতে পারতাম।’

স্থানীয়রা বলেন, হালিমা এখনো জীবিত আছে। তারা গরীব পরিবার। তার ছেলে ভ্যান চালিয়ে খায়। তাকে যদি বয়স্ক ভাতা দেয়া হয় তাহলে তারা সুন্দরভাবে চলতে পারে।

বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, হালিমা জীবিত আছে। ভুলবশত নির্বাচন অফিস লিখছে মৃত হালিমা। তবে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো ভুল হয়নি, হালিমা জীবিত আছে। পরিষদে বিধবাভাতা ও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করলে অনলাইনের সার্ভারে তাকে মৃত দেখায়। এজন্য তার বয়স্ক ভাতা বাতিল করা হয়েছে। আমরা এটার দ্রুত নিষ্পত্তি চাই।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, তার ডেড স্ট্যাটাস রয়েছে, এটা সঠিক। তবে কি কারণে হয়েছে এটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। এটা তদন্তের বিষয়। হালিমা যদি আমাদের কাছে আসে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক করে দেওয়া হবে।