প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার ‘শেখ হাসিনা সরণি’ (পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে) এবং চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ ১৫৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার ৪১টি অবকাঠামো ও বাড়ির উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রকল্পের মধ্যে ৪ হাজার ৬৪৪টি বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামো এবং ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এক লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৫ হাজার ৩৯৭টি গৃহ নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে সম্প্রতি শেখ হাসিনা সরণি নামকরণ করা পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েসহ ১৫টি প্রকল্প গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। চারটি প্রকল্পের মধ্যে একটির অধীনে কর্র্তৃপক্ষ সারা দেশে ২ হাজার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ভবন নির্মাণ করেছে এবং তিনি সারা দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ১ হাজার ২৫৯টি ভবনও উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত চারটি ডে-কেয়ার সেন্টারও উদ্বোধন করেন। তিনি মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে দুটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেছেন, যেগুলো প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে। সারা দেশে ১০১টি কেন্দ্র ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। খবর বাসসের
অনুষ্ঠানে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ অন্য মন্ত্রীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
ঢাকায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (ঢাকার কুড়িল ফ্লাইওভার পয়েন্ট থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত), যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে কোনো স্টপওভার পয়েন্ট, ট্রাফিক সিগন্যাল বা অন্য কোনো বাধা নেই। তাই যানবাহনগুলো তার পুরো দৈর্ঘ্য ছয় বা সাত মিনিটের মধ্যে চলতে পারে। এতে রাজধানী, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কুড়িল থেকে বালু নদী পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরণির দুই পাশে ১০০ ফুট চওড়া ও ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের উদ্বোধন করেন। ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, চার লেনের সার্ভিস রোড, নারায়ণগঞ্জের বালু নদী থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে এবং চার লেনের সার্ভিস রোডের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৮৪ দশমিক ৭৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শেখ হাসিনা সরণির ওপর পাঁচটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ, ১২টি সেতু, ছয়টি আন্ডারপাস, খালের ওপর আরও ১৩টি সেতু, ৩৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার হাঁটা পথ, ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, দুটি সøুইসগেট এবং ১১টি সাব-স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি ১ হাজার ১৭০টি সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রামে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের (সিপিএ) একটি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। সিডিএ প্রকল্পগুলো হলো ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফৌজদারহাট-বায়োজিদ লিংক রোড ও বাকালিয়া এক্সপ্রেস রোড। সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, জানে আলম দোভাষ এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের নামে সিডিএ প্রকল্পগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
সিপিএ নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিজ উদ্যোগে নিজ এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৫১টি ঘর নির্মাণ করেছেন।