স্ত্রীর কাছে কাবিলা দুষ্ট পলাশ লক্ষ্মী

জিয়াউল হক পলাশের পরিচিতি ব্যাচেলর পয়েন্ট ধারাবাহিকের মাধ্যমে। আসল নামের চেয়ে চরিত্র কাবিলা নামেই তার পরিচিতি বেশি। এ নিয়ে মজার গল্পও রয়েছে। অভিনয় ছাড়াও পলাশ নাটক ও বিজ্ঞাপন পরিচালনা করে থাকেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পলাশের মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন সিজন কবে আসবে?

আমি তো একজন অভিনেতা। এটা কাজল আরেফিন অমি ভাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার অভিমত যদি বলি, এটার নতুন সিজন শিগগির আসা উচিত। এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে আলাপ করছি, পাশ থেকে একজন জানতে চাইলেন নতুন সিজন কবে আসবে। আমার মনে হয় দর্শকদের ভালোবাসার এই প্রতিদান দেওয়া উচিত।

অনেকদিন ধরে এই ধারাবাহিকে কাজ করছেন, নিশ্চয়ই আবেগের কোনো জায়গা আছে, সে বিষয়ে দর্শকদের জন্য বলুন-

আসলে আমি দেশের যেখানে যাই, বিশ্বের যেখানে যাই বাংলাভাষী মানুষরা কাবিলা নামে আমাকে চেনে। মারজুক ভাইকে পাশা ভাই নামে চেনে। চাষী আলমকে হাবু ভাই নামে চেনে। তারা মনে করে পাশের বাড়ির মানুষটাই আমি কাবিলা। তারা কাবিলাকে নিজেদেরই একজন মনে করে। এরচেয়ে বড় আবেগের জায়গা কী হতে পারে?

কাবিলা চরিত্র করার পর মধুর বিড়ম্বনাও নিশ্চয়ই রয়েছে, এমন কোনো গল্প...

গল্প নয়, বাস্তব। এমন কোনোদিন নেই যেদিন আমি বাড়িতে নিচে নেমে কোনো ভক্তকে পাইনি। হয়তো দেখা গেল পঞ্চগড় থেকে এসেছেন, চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। একটা ছবি তোলার আবদার। আমিও তাদের ঘাড়ে হাত রেখে হাসিমুখে ছবি তুলি। তাদের সঙ্গে গল্প করি।

আপনার স্ত্রীও নিশ্চয়ই আপনার অভিনয় দেখে, আপনার সম্পর্কে তার বক্তব্য কী?

আমার স্ত্রী কাবিলার অভিনয় উপভোগ করে। তার কাছে অভিনয় আর বাস্তবের আমি একেবারে আলাদা। দুটোকে সে কখনই এক করে না। তার ভাষ্য কাবিলা দুষ্ট কিন্তু ব্যক্তি পলাশ লক্ষ্মী।

অভিনয়, নির্দেশনার বাইরে আপনার বাকি সময়টা কাটে কীভাবে?

আমি বই পড়ি ও গান শুনি। জয় গোস্বামী আমার প্রিয় কবি। এখন যেটা হচ্ছে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি জয় গোস্বামীর কবিতা পড়ি, আমার স্ত্রীকে শোনাই। সেও পড়ে। এছাড়াও আমার পছন্দের কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ, যার বই আমার ব্যাগেই থাকে। অবসর পেলেই পড়ি। আমার প্রিয় গায়ক অঞ্জন দত্ত। যখন আমার বন্ধুরা হিমেশ রেশামিয়ার গান শুনছে, তখন আমি শুনছি অঞ্জন দত্ত, কবীর সুমন। অঞ্জন দত্ত আমার ভীষণ পছন্দের, স্বপ্নের মতো একটা চরিত্র। যার গান শোনা ছাড়াও অভিনয় আর ডিরেকশন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তিনি সময়ের চেয়ে এগিয়ে।

এই সময়ের কাদের গান শোনেন?

এই সময়ে কাকতাল ও অ্যাশেজ ব্যান্ডের গান আমার ভীষণ প্রিয়। এখন আমি প্রচুর তাদের গান শুনি। অ্যাশেজ ব্যান্ডের গানের একটা মিউজিক ভিডিও সম্প্রতি করলাম। এরপর দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড থেকে প্রস্তাব পাচ্ছি।

শুনেছি নোয়াখালীতেও আপনার দাদাবাড়িতে ভক্তরা ভিড় জমায়?

হ্যাঁ ভাই, আর বলেন না। সেখানে আমার চাচা-চাচিরা থাকেন। ভক্তরা কোথা থেকে যেন জানতে পেরেছে এটা পলাশদের বাড়ি। তারা উপহার নিয়ে আসে। অবাক হবেন যে, আমার চাচা-চাচির বাসায় উপহার জমে গেছে।