আমনের ক্ষতি কৃষক সইবে কীভাবে!

চলতি মৌসুমের আমন ধান ঘরে তোলা শুরু করেছেন কৃষকরা। অনেকের ধান এখনও মাঠে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি।

দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় অন্যতম ভরসা আমন। কৃষকের জন্যও এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। ধান ঘরে না তুলতে পারলে না খেয়ে থাকার আশঙ্কার মধ্যে এমন ক্ষতিতে দিশেহারা তারা।

দেশ রূপান্তরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে আমনের ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে কৃষকের হাহাকার।

কুমিল্লার আঞ্চলিক প্রতিনিধির তথ্য বলছে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে লন্ডভন্ড কুমিল্লার দক্ষিণ অঞ্চল। প্রতিটি সড়কের পাশে গাছ পড়ে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই এলাকা। টানা বৃষ্টিতে শীতের সবজি ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। 

জেলার দক্ষিণ অঞ্চল, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও লালমাই উপজেলায় ওপর দিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। নষ্ট হয়েছে আমন মৌসুমের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমির ধান। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর আগাম শীতকালীন শাকসবজি।

নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে নাঙ্গলকোটে আমন ও শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতির পরিমাণটা সঠিকভাবে আগামী তিনদিন পর জানা যাবে।

এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেবে হাতিয়ায় চাষ করা ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা আমন ধানের বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে মিধিলির তাণ্ডব ও ভারী বর্ষণে ১১৬২ হেক্টর আধাপাকা আমন ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় এবং রবি ও শীতকালীন শাকসবজিসহ প্রায় ২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা।

লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে ক্ষেতে থাকা কাঁচাপাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটিস্থানে ক্ষেতে থাকা আমন ধানের গাছ ভেঙে পড়েছে। আমন ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে আছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ধানসহ ফসলের ক্ষতি কম হবে। 

জেলাতে ৮৩ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। শীতের সবজির আবাদ হয়েছে তুন হাজার হেক্টর জমিতে। ক্ষেতের আমন ধান এখনো কাঁচা। এ পর্যন্ত ৬ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

মিধিলির সামান্য সময়ের তাণ্ডবে পটুয়াখালীতে আমন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ২২ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে দেড় হাজার হেক্টর জমির সবজি। এতে বড় লোকসানের মুখে পড়েছে আমন চাষীসহ মৌসুমি সবজি চাষীরা। 

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি খাতে জেলায় ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মিধিলির প্রভাবে বরিশাল জেলায় গত দুইদিনের টানা বর্ষণে ১০ উপজেলার অধিকাংশ জমির ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এবার আমন ধানের চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ফসলের ভালো ফল না হওয়ায় আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদি, বাকেরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধানগুলোতে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যাবে না। এতে ধানের পরিবর্তে ব্যাপক চিড়া হওয়া আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ ধানক্ষেতে কেবল ধানের শিস ধরেছে। এই মুহূর্তে বৃষ্টির কবলে পরে হাজার হাজার হেক্টর ধানক্ষেত পানির নিচে। তবে আর কয়েক দিন গেলেই পরিপক্ক হতো ধানগুলো।