কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিবাদমান দুই বংশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। ভাঙচুরসহ লুটপাট করা হয়েছে প্রায় ১৫টি বাড়িঘর। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বধূনগর গ্রামের তৌহিদ মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মতি মিয়া ও আবুল কালামের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের মীমাংসা করতে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সালিশ দরবারে বসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মাতব্বররা। ওই সালিশে দুপক্ষের সংঘর্ষে তৌহিদ মিয়ার বাড়ির কালা মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মতি মিয়া আবুল কালাম মিয়ার বাড়ির লোকজনের নামে হত্যা মামলা করলে গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষরা সব পালিয়ে যায়। এই সুযোগে কালা মিয়ার সমর্থকরা ওই দুই বাড়ির অর্ধশত বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে গত জুলাই মাসে জামিনে এসে কালাম মিয়ার লোকজন আবার ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় তৌহিদ মিয়ার সমর্থকদের বাড়িঘরে। দুইবারেই উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাতে ফের উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার সকাল ৯টার দিকে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায় তাদের স্বজনরা। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুরুতর অবস্থায় শাহআলম, জালাল মিয়া ও কিবরু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এবং জজ মিয়া, ইমরান মিয়া, অন্তর মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, জাকির হোসেন, জাহের মিয়া, রুবেল মিয়া, সুজন মিয়া ও লাকী বেগমকে আশপাশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভৈরব থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। পরবর্তী অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’