জোটবদ্ধ নির্বাচনে ইসিতে ১০ দলের আবেদন

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জোটবদ্ধভাবে অংশ নেবে তাদের তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শেষ দিন পর্যন্ত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগসহ ১০টি দলের আবেদন জমা পড়েছে। এরমধ্যে জাতীয় পার্টির একাংশ নৌকা প্রতীকে ভোট করতে ইচ্ছুক। গতকাল শনিবার ইসি ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ তথ্য জানান।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এখন পর্যন্ত ৯টি দল। জোটভুক্ত ভোটে নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় পার্টি, সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ও গণতন্ত্রী পার্টি। এছাড়া শমসের মবিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপি প্রগতিশীল ইসলামি জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে সোনালী আঁশ প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ বলেছে তারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে। কোন কোন দলের সঙ্গে জোট করবে এ কথা তাদের চিঠিতে বলা নেই। কয়েকটি দল পৃথকভাবে বলেছে তারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে।

জাপার দুটি চিঠি এসেছে। জিএম কাদের বলেছেন, তার সইয়ে মনোনয়ন হবে। আবার রওশন এরশাদ বলেছেন, তারা জোটেন ভোট করবেন। কোনটি আমলে নেবেন জানতে চাইলে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এটা কমিশন দেখবে। দুটি চিঠি এসেছে। কমিশন যেটা আমলে নেয়।

আওয়ামী লীগ চিঠিতে কী বলেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলেছে, জোটবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। আর সভাপতির সইয়ে তারা নমিনেশন দেবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক একাধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মিলে নির্বাচনী জোট গঠন করা হলে, এ জোটের যেকোনো একটি দলের প্রতীক জোটভুক্ত দলসমূহের প্রার্থীদের বরাদ্দ করা যাবে। এমন প্রতীক পেতে হলে জোটকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর দরখাস্ত দাখিলের বিধান রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান  গোলাম  মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ।

জিএম কাদেরের পক্ষে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আপনাকে জানানো যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে উল্লেখ করে ইসিকে আরেকটি চিঠি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। চিঠিতে রওশন এরশাদ বলেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আগের তিনটি সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবারও চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এটা হবে শুধু নির্বাচনী জোট।

চিঠিতে তিনি বলেন, নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা লাঙ্গল কিংবা প্রার্থীর ইচ্ছানুসারে মহাজোটে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।

এদিকে, এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এখন পর্যন্ত সংলাপের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিএনপিও সংলাপের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি, সরকারি দলও সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ রকম অবস্থায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না এ প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে আমরা জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা, প্রয়োজনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মিটিং ডেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

তৃণমূল বিএনপির প্রতীকে ভোট করবে প্রগতিশীল ইসলামী জোট : তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রগতিশীল ইসলামী জোট। অর্থাৎ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে অংশ নেবে রাজনৈতিক দলটি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হবিবুল আউয়াল বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রগতিশীল ইসলামী জোট নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপির আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রগতিশীল ইসলামী জোটের প্রার্থীরা তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।