বিশ্বে ৬৬ শতাংশ অতি দরিদ্র মানুষ যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তার চেয়ে বেশি কার্বন বাতাসে দিচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ অতি ধনীরা। অথচ এই ধনীরাই আবার জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের মতো দুর্বিসহ সংকটে আরামেই থাকছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফামের সঙ্গে মিলে প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
বিশ্বে কার্বন দূষণেও যে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান-বৈষম্য রয়েছে তা উঠে এসেছে অক্সফাম-গার্ডিয়ানের করা ‘দ্য গ্রেট কার্বন ডিভাইড’ শিরোনামের তদন্ত প্রতিবেদনে। এই তদন্তে কার্বন নিঃসরণের কারণ ও পরিণাম এবং এতে অতিধনী বা সুপার এলিটদের কী ভূমিকা তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন এবারের কপ-২৮ সম্মেলনে ধনীদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অক্সফাম-গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, এই ১ শতাংশ ধনীকে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে পড়তে হচ্ছে না। তাদের জীবনযাপন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, ২০১৯ সালের হিসাব বলছে ৫৯০ কোটি টন কার্বন বাতাসে ছেড়েছেন এই ধনীরা। যা ভুগিয়েছে পুরো বিশ্বকে।
প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে যা বিশ্ববাসীর ক্ষোভ জাগাবে। তদন্তে উঠে এসেছে, মাত্র ১ শতাংশ ধনীর কারণে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হচ্ছে তাতে আগামী দশকগুলোতে উচ্চ তাপমাত্রাজনিত কারণে ১৩ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০-২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ১ শতাংশ ধনী যে পরিমাণ কার্বন দূষণ করেছে তা গত বছর ইউরোপের ভুট্টা, যুক্তরাষ্ট্রের গম, বাংলাদেশের ধান এবং চীনের সয়াবিনের উৎপাদন নিশ্চিহ্ন করার সমান শক্তিসম্পন্ন দূষণ।
ধনীদের বিপুল কার্বন নিঃসরণের অন্যায্য শিকারে পরিণত হয়েছে দরিদ্ররা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে করুণ প্রান্তিক জনপদের মানুষ, অভিবাসী, নারী এবং কমবয়সী মেয়ে্দের অবস্থা। কারণ তাদেরকে তীব্র তাপের মধ্যেও ঘরের বাইরে কাজ করতে হয়। অথচ এই গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত সঞ্চয় নেই, ইনসুরেন্স নেই ,নেই কোনো সামাজিক সুরক্ষা। এর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, শারীরিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সংকটে হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়ছে। তাদের পড়তে হচ্ছে খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের প্রকোপে। জাতিসংঘ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এসব দুর্যোগে যেসব মৃত্যু হচ্ছে তাদের ৯১ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ।
প্রতিবেদন বলছে, ধনী ১ শতাংশ মানুষ ১ বছরে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে এর সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করতে বাকী ৯৯ শতাংশ মানুষের লাগবে ১৫০০ বছর!