উত্তর গাজায় যাওয়া নিষেধ

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধরত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকমী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চার দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তরফ থেকে গতকাল ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় ইসরায়েলের হামলায় উত্তর গাজার সাত বাসিন্দা আহত হয়। এর মধ্যে গতকাল মিসর থেকে রাফাহ ক্রসিং হয়ে জ্বালানি ও খাবরারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশ করা শুরু করে গাজায়। ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধের ৪৯ দিনে রুদ্ধাশ্বাস অনিশ্চয়তার মধ্যে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে। 

ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল জানায়, দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তর গাজায় যাওয়ার অনুমোদন নেই। কারণ উত্তর গাজা ‘একটি যুদ্ধ অঞ্চল’। গতকাল দক্ষিণ গাজায় চলে আসা ফিলিস্তিনিরা জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলে সেখানে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা বাধা দেয়। এ সময় গুলি ছুড়ে এবং গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এতে প্রায় সাতজন আহত হয়। উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘরগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তবুও মানুষ তাদের বাড়ি ফেরার আকুলতা প্রকাশ করছে। ফিলিস্তিনের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন, কারা কারা মুক্তি পাবেন। গতকালই হামাস এবং ইসরায়েল বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা। 

গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দা হামজা ইব্রাহিম জানান, যুদ্ধবিরতিতে তারা বেশ খুশি। ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজাকে পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক লাগবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন গাজায় ইসরায়েলের অবিরাম গোলাবর্ষণের কথা মনে করছে, তখন এই যুদ্ধবিরতি তাদের কাছে কষ্ট ও দুর্বিষহ অবস্থা থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচার মতো মুক্তি পাওয়া মতো মনে হচ্ছে।’ তবে তিনি পরক্ষণেই বলেন, এই দুঃস্বপ্ন শিগগিরই ফিরে আসবে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যে পশ্চিম তীরে নজরদারি ও অভিযান বন্ধ রাখেনি ইসরায়েল। গতকাল জেরিকো এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ২২ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছে। তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে আহত হওয়া যুবকও মারা গেছেন। হেবরন শহরের পশ্চিমে তারকুমিয়াহ এলাকায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৩১ জন নিহত হয়েছে। এই সময়ে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন আরও ছয়জন।