উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কাহিনীকার, প্রযোজক মুক্তিযোদ্ধা (প্রয়াত) গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে ‘বাঙ্গালীর মঞ্চ’ মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় গীতিকারের সহধর্মিণী জোহরা গাজীর হাতে। ‘মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নেই’ শিরোনামের শীর্ষক এ অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় সদ্যপ্রয়াত কবি মুক্তিযোদ্ধা আসাদ চৌধুরীকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসতে পারেননি বলে অনুষ্ঠানটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে ‘বাঙ্গালীর মঞ্চ’ সংগঠনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান আগত অতিথিরা। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে ‘বাঙ্গালীর মঞ্চ’ মরণোত্তর সম্মাননা গ্রহণ করেন তারই সহধর্মিণী জোহরা গাজী, কন্যা দিঠি আনোয়ার ও পুত্র শরফরাজ আনোয়ার উপল।
এ সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মিসেস জোহরা গাজী বলেন, ‘বাঙ্গালীর মঞ্চ’-এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নতুন ও আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রচার, দেশের দুর্গতকালের স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম, বাঙালির পার্বণ পালন, জাতীয় দিবস উদযাপনসহ নানান ধরনের কাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততাকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এমন চমৎকার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের গর্ব, আমাদের পরিবারের গর্ব, আমার সন্তানদের গর্ব তথা আমার স্বামী গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে এমন সম্মাননায় ভূষিত করায় আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। নিশ্চয়ই এই মাহেন্দ্রক্ষণ তিনি দূর থেকে ঠিকই দেখছেন। আমি তার স্ত্রী হিসেবে আজ এবং আবারও ভীষণ সম্মানিত বোধ করছি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বাংলার বুকে একজন গাজী মাজহারুল আনোয়ার বেঁচে থাকবেন।’
উপল-দিঠি বলেন, ‘আব্বুকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করায় বাঙ্গালির মঞ্চ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বক্শী হাবিবুর রহমান ভাইয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমার আব্বুর জন্য সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।’