রাজধানীর শ্যামপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে স্বর্ণ ডাকাতির সময়ে ডাকাত চক্রের ৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। এ সময় চক্রটি এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ ও তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকা ডাকাতির চেষ্টা করছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আলম (৬২), মো. আলমগীর হোসেন (৩৯), মো. পলাশ শেখ (৩৫), মো. সাব্বির হোসেন (৩৪)। তাদের মধ্যে মো. আলম বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য ও মো. আলমগীর হোসেন সেনাবাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ৩৮ দশমিক ৯৭০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বুধবার রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) ড. খ. ম মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা বাজারের জ্যোতি জুয়েলার্সের মালিক তপন কুমার সাহা (৪২)। তিনি ঢাকার তাঁতি বাজার তার মামা প্রানতোষ কর্মকারের রাজকোট বুলিয়ন এন্ড জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনা ও মালামাল তৈরি করে নিজের প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গা নিয়ে যান। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে তিনি ফরিদপুর থেকে ঢাকা তাতী বাজার আসেন এবং অর্ডারের ৩৮ দশমিক ৯৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং মামার কাছ থেকে ধার হিসাবে ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা একটি হাত ব্যাগে নিয়ে তার ফরিদপুর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য পোস্তগোলার উদ্দেশে সিএনজিতে রওনা হন। পথে শ্যামপুর থানার ঢাকা মাওয়া রোডে পোস্তগোলা ব্রিজের পূর্ব পাশের ঢালে পৌঁছালে কেরানীগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস হঠাৎ সিএনজির গতিরোধ করে। তারপর তারা মাইক্রোবাস থেকে নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় এবং সিএনজি থেকে ভুক্তভোগীকে টেনে-হিচড়ে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে তার হাত পা ও চোখ বাঁধার চেষ্টা করে। সে বাধা দিলে তাকে কিলঘুষি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগ এবং ২টি মোবাইল কেঁড়ে নেয়।
মাইক্রোবাসটি ঢাকার দিকে কিছু দূরে যাওয়ার পরেই রাস্তায় যানজটে গাড়িটি ঘুরিয়ে উল্টাপথে আসার সময় কর্তব্যরত সার্জেন্ট গাড়িটি সিগন্যাল দিয়ে থামায় এবং গাড়ীর কাগজপত্র দেখতে চায় ও উল্টাপথে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করে। তখন পলাতক আসামি মাসুদ সার্জেন্টের কাছে নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দেয়। অপহৃত ব্যক্তি তপন কুমার তখন পুলিশকে দেখে ডাক চিৎকার দিলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় শ্যামপুর থানার পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে আসলে ডিউটিরত সার্জেন্ট অন্যান্য সার্জেন্ট, টিআই এবং পুলিশসহ শ্যামপুর থানা পুলিশ মিলে আসামিদের আটক করেন।