প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে দলে ঢুকেছিলেন। কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করতে লেগেছে অনেক সময়। সেই তিনি এখন দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা। শুধু তাই নয়, বয়সভিত্তিক দল থেকেই তাকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছিল। এখন তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক। নাজমুল হোসেন শান্ত। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেক হয়েছে। আর সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে করলেন বাজিমাত। এই দলের বিরুদ্ধেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল শান্তর। নেতৃত্বের শুরুটা কিউইদের দিয়েই। তাদের বিপক্ষেই শান্তর সব ‘প্রথম’ জড়িয়ে গেল। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি কীর্তিটা ক্রিকেট ইতিহাসে ৩১ বার ঘটলেও কোনো বাংলাদেশির নাম যে গতকালই প্রথম ঘটল।
দিনের শেষ ওভারে এজাজ প্যাটেলের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন শান্ত। এর আগে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল সাকিব আল হাসানের। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রেনাডা টেস্ট জেতানোর পথে ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে টেস্টে নেতৃত্ব দিতে নেমে অভিষেকে অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ আর লিটন দাসও। তবে তাদের কেউই ইনিংসটা তিন অঙ্কে টেনে নিতে পারেননি। এই তালিকায় শান্তই সবার আগে নামটা দখল করে নিলেন।
ক্যারিয়ারের ২৪তম টেস্ট খেলতে নামা নাজমুল অবশ্য রানের মধ্যেই ছিলেন। এ নিয়ে সর্বশেষ চারটি টেস্ট ইনিংসের তিনটিতেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এটি তার পঞ্চম শতক। এর আগে ওয়ানডেতেও বাংলাদেশিদের মধ্যে নেতৃত্বের অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের অভিষেকে ৭৬ রান করেছিলেন তিনি। ভেঙে দিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে আমিনুল ইসলামের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে করা ৭০ রানের ইনিংস।
শান্তর সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেটে ২১২ রান তুলে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। শান্ত তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিটি ছুঁয়েছিলেন ১৯২ বলে। ১০৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটি গড়ার পথে তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার। একটিও ছক্কা নেই। প্রথম ইনিংসে ছক্কা মারতে গিয়ে নিজেকে বিসর্জন দেওয়ায় কাল আর ও পথে হাঁটেননি শান্ত। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি অপরাজিত আছেন ৪৩ রানে।
মুশফিক আর শান্ত মিলে জুটি গড়েছেন ৯৬ রানের। এর আগে শান্তর সঙ্গে ৯০ রান যোগ করেন মুমিনুল হক। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন এই দুজন। মুমিনুল এগোচ্ছিলেন ফিফটির দিকেই। দুজনের ব্যাটই হাসছিল। তবে ছন্দপতন হয় মুমিনুলের ভুলে। ইনিংসের ৪১তম ওভারে এজাজ প্যাটেলের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে অন ড্রাইভ করেন মুমিনুল। বল সোজা মিড অনে থাকা হেনরি নিকোলসের হাতে যেতে দেখেও ক্রিজ ছেড়ে উইকেটের মাঝামাঝি চলে যান মুমিনুল। অন্য প্রান্তে নাজমুল তখন নিজের ক্রিজে দাঁড়িয়ে। বিপদ বুঝতে পেরে মুমিনুল নিজের ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হননি। নিকোলসের থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন টম ব্লান্ডেল। ৬৮ বলে ৪০ রান করে তিনি আউট হন।
শান্তর সেঞ্চুরি গড়ার দিনের সূচনাটা অবশ্য দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসানের ব্যাটে। তাদের উদ্বোধনীতে আসে মাত্র ২৩ রান। তবে এই রানগুলো সংগ্রহ করতে জয় ও জাকির খেলেছেন ৭৩ বল। সেটা ভাঙে এজাজ প্যাটেলের স্পিন ঘূর্ণিতে। এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে জাকির ৩০ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান। তার বিদায়ের ৩ রানের ব্যবধানে জয়কেও হারায় টাইগাররা।
সেটা আবার টিম সাউদির দক্ষতায়। নন-স্ট্রাইকে থাকা জয় উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। শান্তর শটে বলটি সাউদির পায়ে লেগে স্টাম্পে এসে আঘাত করে। ৪৬ বলে ৮ রানে ফেরা জয়ের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। যেন একি হয়ে গেল! তার শরীরী ভাষা দলের স্কোরবোর্ডে ফুটে উঠেছিল। জোড়া আঘাতে চাপে পড়ারই কথা। তবে সেই চাপ সামলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের।