কর্মস্থল এক জায়গায়, চাকরি করেন অন্যত্র

মো. ইকবাল। বাড়ি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে। অফিস সহায়ক পদে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কাযার্লয়ের অধীনে চাকরি করছেন। গত অক্টোবর মাসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কাযার্লয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শুভাশীষ চাকমা স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে ইকবালকে বদলি করা হয় পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। একই আদেশে তাকে সংযুক্তি দেওয়া হয় মগনামা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। কিন্তু তিনি মগনামা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি না করে কাজ করছেন বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে ডেপুটেশনে কর্মরত ছিলেন ইকবাল হোসেন। তাকে ২০২০ সালের ২৩ জুন তারিখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাবেক ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর মো.মোস্তাফা জাবেদ কায়সার স্বাক্ষরিত আদেশে উখিয়া উপজেলা ভুমি অফিস থেকে বদলি করা হয় পেকুয়া উপজেলা ভুমি অফিসে। কিন্তু ইকবাল বদলীর ওই আদেশ লঙ্ঘন করে অনেকটা প্রভাব খাটিয়ে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে বহাল ছিলেন প্রায় ১৬ মাস।

এরপর চলতি অক্টোবর মাসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কাযার্লয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শুভাশীষ চাকমা স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে ইকবালকে বদলি করা হয় পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। একই আদেশে তাকে সংযুক্তি দেওয়া হয় মগনামা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। বদলি আদেশের পর চলতি বছরের অক্টোবরের ২২ তারিখের পূর্বে পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন ইকবাল। কিন্তু তিনি মগনামা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি না করে কাজ করছেন বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আগত কয়েকজন সেবাপ্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ইকবাল নামের কর্মচারী গত তিন সপ্তাহ ধরে ভূমি অফিসে আগত লোকজনকে চরমভাবে হয়রানি করছেন। খতিয়ান তামিলের নামে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে গণহারে ঘুষ আদায় অতিষ্ঠ করে তুলেছেন।  

এ বিষয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মোহসেনা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে কর্মচারী ইকবাল খতিয়ান তামিলের জন্য ভূমি অফিসে আগত কয়েকজন লোকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। তখন আমি তাকে ঘুষ নিতে বারণ করি। ইকবাল আমার কোন কথাই শুনে না।’

তহশিলদার আরও বলেন, ‘ইকবালের মূল কর্মস্থল মগনামা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। সেখানে চাকুরি না করে বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করছেন।’ 

অভিযোগের বিষয়ে মো. ইকবালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মূল পোস্টিং পেকুয়া সদর ভূমি অফিস ও প্রেষণে মগনামা ভূমি অফিসে। এসিল্যান্ড আমাকে বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পদায়ন করেছেন।’

ডিসি অফিসে আদেশ ছাড়া এসিল্যান্ড পদায়ন করতে পারে কিনা জানতে চাইলে ইকবাল বলেন, ‘এসিল্যান্ডের ক্ষমতাবলে আমাকে বারবাকিয়া ভূমি অফিসে পদায়ন করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুম্পা ঘোষ বলেন, ‘ডিসি স্যারের সাথে আলাপ করেই পেকুয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক ইকবালকে বারবাকিয়া ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক কাযার্লয়ের আদেশ ছাড়া এসিল্যান্ড বদলি করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরে আদেশ হবে।’

সেবাপ্রার্থীদের বারবাকিয়া ভূমি অফিসে হয়রানি করছে ইকবাল এমন প্রশ্ন করা হলে এসিল্যান্ড বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।