পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারা সমূহ সংশোধন করে চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
আজ শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মুজিবুর রহমান।
কাজী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পাবর্ত্য চুক্তি একটি অসম চুক্তি। ২৪ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হাজার হাজার বাঙালির প্রাণ নিয়েছে সন্তু লারমার সন্ত্রাসী গোষ্ঠি জেএসএস। বাঙালিরা আর বসে থাকবে না। ভারত ও মিয়ানমার দশ হাজার সশস্ত্র সন্ত্রাসী আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র দিচ্ছে। জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ (সংস্কার), মগপার্টি (এমএলপি) ও কেএনএফ নিরীহ বাঙালিদের ওপর প্রতিনিয়ত গুম, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, লুটিপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই ঘটনা দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উৎখাত করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করে বলেন, তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য হেলিকপ্টার প্রদানসহ অত্যাধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপন করতে হবে। তিন পার্বত্য জেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ইউনিট স্থাপন করতে হবে। শিক্ষা-চাকুরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। তিন পার্বত্য জেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যহীন ন্যায় বিচার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণসচেতনেতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধন এবং ভূমি বন্দোবস্তি চালু করে খাসজমি অসহায় ও ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্তি দিতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে ১ কিলোমিটার পর পর বিজিবির বিওপি ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। এছাড়া দুর্গম ও সন্ত্রাস প্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলকে পর্যটন ও রাবার শিল্পের অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি চাকুরি, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, উপবৃত্তির ক্ষেত্রে উপজাতি কোটা বাতিল করে পাবর্ত্য কোটা চালু করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের জন্য সমানহারে কোটা নির্ধারণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবীর, দপ্তর সম্পাদক শাহ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ, এম রুহুল আমীন প্রমুখ।