শরণার্থী শিবিরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম

৮৬ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ নাশওয়ান। জর্ডানের বাকা শরণার্থী শিবিরেই তার পরের দুই প্রজন্মের বেড়ে ওঠা। এখন তার সামনে বেড়ে উঠছে এক বছর বয়সী প্রপৌত্র তায়েম। ১০ বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন নাশওয়ান যার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেন না তিনি। নাশওয়ানের বাড়ি ছিল পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার দাওয়েমেহ গ্রামে। গ্রামটি ছিল জলপাইগাছে পরিপূর্ণ। অথচ তার জীবনটা কাটল ভিনদেশে। তার মতো অনেক ‘দেশছাড়া’ ফিলিস্তিনির জীবনের পরিণতি এই-ই।

আব্দুল্লাহ নাশওয়ান স্মৃতিচারণ করেন, ‘আমার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। আমাদের কিছু জমি ছিল যেখানে আমরা গম আর বার্লি আবাদ করতাম। আমাদের জীবিকাই ছিল এর ওপর এবং তা খাওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবকিছুই ছিল সুন্দর।’ পাশ থেকে ২০ বছর বয়সী নাতি মোহাম্মদ বলে ওঠেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়, আবার যদি ফিরে যাওয়া সম্ভব হতো। আমি সমগ্র ফিলিস্তিন দেখতে চাই, শুধু দাওয়েমেহ নয়।’ 

১৯৬৭ সালে আব্দুল্লাহ ও তার সন্তানরা বাকায় আসেন। তবে এটি নাশওয়ানের জীবনে প্রথম বাস্তুচ্যুতির ঘটনা নয়, তিনি পশ্চিম তীরেই প্রথম শরণার্থীর জীবন পান। সেখান থেকে বাকায় প্রথম বাস্তুচ্যুতির স্বাদ পান তার ছয় সন্তান। ১৯৪৮ সালে প্রথম ‘নাকবা’ তথা বিপর্যয়ের সময় জেরিকো এলাকায় শরণার্থী হিসেবে নাশওয়ানের পরিবার প্রথম আসে। মোহাম্মদের বাবা ৫৭ বছর বয়সী সাদি বলেন, ‘বাবা-মার সঙ্গে চার মাস বয়সে এসেছিলাম বাকায়।’ এখন তার পরের প্রজন্ম বেড়ে উঠছে শরণার্থী শিবিরেই।

নাশওয়ান ও তার পরিবারের মতো আরও অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, মিসর ও অন্যান্য দেশে জীবন কাটাচ্ছে। অবশ্য পশ্চিম তীর ও গাজায় যারা রয়েছেন তারা দেশে থেকেও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তচ্যুত। ‘ফিলিস্তিনি’ এবং ‘শরণার্থী’, শব্দ দুটো একে অপরের পরিপূরক বললে কি অত্যুক্তি হবে? নাহ, একদমই না। গাজায় ২২ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৭৫ শতাংশই শরণার্থীর জীবন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের কারণে বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি থেমে নেই। থামবে কবে, কেউ জানে না।