কেয়ামতের দিন কিছুই গোপন থাকবে না

মক্কার মসজিদে হারামে গত শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) জুমার নামাজে ইমামতি করেন শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাজ্জাবি। তিনি আখেরাতের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যবহুল ও হৃদয়গ্রাহী খুতবা প্রদান করেন। খুতবায় তিনি বলেন, কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘যেদিন সব গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ করে দেওয়া হবে।’

কাবার খতিব বলেন, গোপন বিষয় বলতে মানুষের যেসব বিশ্বাস ও সংকল্প অন্তরে লুক্কায়িত ছিল, দুনিয়াতে কেউ জানত না এবং যেসব কাজকর্ম সে গোপনে করেছিল, কেয়ামতের দিন সে সবগুলোই পরীক্ষিত হবে বা প্রকাশ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ মানুষের আমলনামা পেশ করা হবে, আর তখন ভালো-মন্দ, উত্তম-অনুত্তম সবই স্পষ্ট হয়ে যাবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শপথ ভঙ্গকারীর জন্য কেয়ামতের দিন একটা পতাকা দাঁড় করানো হবে। আর বলা হবে যে, এটা অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন।’ -সহিহ বোখারি : ৬১৭৮

এভাবেই সেদিন মানুষের সব গোপন ভেদ খুলে যাবে। প্রত্যেক ভালো-মন্দ বিশ্বাস ও কর্মের আলামত মানুষের মুখমণ্ডলে শোভা পাবে। তার ওপরেই মানুষকে প্রতিদান ও শাস্তি দেওয়া হবে। মোট কথা, কারও কোনো আমল গোপন থাকবে না সেদিন।

এই বিষয়ে আরও তথ্যবহুল আলোচনা শেষে পবিত্র বায়তুল্লাহ প্রাঙ্গণে দেওয়া খুতবার শেষে বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। ওই দোয়ার অংশবিশেষ হলো-

হে আল্লাহ! নবী মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করুন, যেমনভাবে আপনি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদের সম্মানিত করুন, কুফরি ও কাফেরদের লাঞ্ছিত করুন। দুর্বল ও অসহায় লোকদের, আপনার রাস্তায় জিহাদকারীদের এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সীমান্তে নিয়োজিত প্রহরীদের সাহায্য ও বিজয় দান করুন। বিশ্বের সব মুসলিম দেশকে নিরাপদ, শান্তিময়, সমৃদ্ধিশালী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করুন।

হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমাদের এবং ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, তার ওপর অনিষ্টের চক্র চালু করুন, তার ষড়যন্ত্র তার দিকেই ফিরিয়ে দিন এবং তার ষড়যন্ত্রকে তার নিজের ধ্বংসের কারণ বানিয়ে দিন।

হে দোয়া শ্রবণকারী আল্লাহ্! আমাদের দেশকে এবং সব মুসলিম দেশকে দুষ্ট লোকদের অনিষ্ট এবং পাপিষ্ঠদের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন। মুসলমানদের বাসস্থানসমূহে তাদের নিরাপদে রাখুন। মুসলিম নেতৃবর্গ ও দায়িত্বশীলদের সংশোধন করুন।

হে চিরঞ্জীব, হে শাশ্বত সত্তা। হে আল্লাহ্! আপনি ফিলিস্তিনের দুর্বল মুসলমানদের রক্ষা করুন। তাদের সহায়তা, সম্মান-মর্যাদা, বিজয় ও সক্ষমতা দিন। তাদের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বভার (আপনি নিজেই) গ্রহণ করুন, তাদের দুশ্চিন্তা দূর করুন, তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করুন, তাদের দুর্বলতা এবং অসহায়ত্বের প্রতি রহম করুন, তাদের দুরবস্থা দূর করুন, তাদের মধ্যে রোগাক্রান্তদের সুস্থ করুন, বিপদগ্রস্তদের নিরাপদে রাখুন, তাদের মৃতদের প্রতি রহম করুন, নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে তাদের ওপর অনিষ্টের চক্র চালু করুন। হে আল্লাহ্! তাদের (ফিলিস্তিনি) সাহায্য করুন, তাদের (শত্রুপক্ষকে) সাহায্য করবেন না। তাদের (ফিলিস্তিনি) জন্য কৌশল ও হেকমার ব্যবস্থা করুন। আপনার শত্রু ও তাদের (ফিলিস্তিনি) শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করুন।