দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থানার ওসিদের রদবদলের যে নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন (ইসি) দিয়েছে, সে অনুযায়ী যথারীতি তাদের বদলি করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে থানার ওসি আছেন, তারা হয়তো কারও প্রতি ‘ইনক্লাইন্ড’ (অনুগত বা পক্ষপাতদুষ্ট) হতে পারে, এ বিবেচনাতেই তাদের বদলির নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রবিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। যখনই নির্বাচন আসে, শিডিউল ডিক্লেয়ার হয়ে গেলেই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে শুরু করে সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকে। নির্বাচন কমিশন মনে করেছে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে যারা দীর্ঘদিন ধরে ওসি হিসেবে আছেন, তারা হয়তো কারও প্রতি ইনক্লাইন্ড (অনুগত) হতে পারেন। ওসিদের নিয়ে এ ধরনের বিবেচনা নির্বাচন কমিশনের, আমাদের কিছু নয়। এজন্যই তারা সারা দেশে ওসিদের ট্রান্সফার করেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সারা দেশে ওসিরা কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে বিএনপি-জামায়াত কীভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। খাগড়াছড়িতে একটা ট্রাক যাচ্ছিল, আমাদের যে রক্ষণাবেক্ষণ ছিল, সেখান থেকে ট্রাক ড্রাইভার কিছুটা পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ট্রাকে থাকা দুজনের মধ্যে একজন নেমে যেতে পেরেছিলেন, আরেকজন তখন নামতে পারেননি। ফলে তার শরীরে পেট্রোল লেগে আগুনে পুড়ে যায়। এখান থেকে বার্ন ইউনিটে আসার পর সেখানে মারা যান। ২০১৪-১৫ সালে ঠিক একই কায়দায় অগ্নিসন্ত্রাস করেছে বিএনপি-জামায়াত। তারা সে সময়ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছে। এবার ঠিক সে রকমই তারা চাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ বিএনপি-জামায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর যে কারণে তারা নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে। নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না, বিষয়টি তারা সুনিশ্চিত হয়েছে। এই অগ্নিসন্ত্রাস যারা করে, তাদের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেই তারা বুঝতে পেরেছে আর গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমরা দেশের জনগণও কিন্তু বসে নেই, যেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিহত করছে, পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে।’