পালিয়ে বিয়ে করায় ছেলের নামে মামলা, ৬ দিন ধরে কারাগারে বৃদ্ধা মা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ৮ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পালিয়ে বিয়ে করে আত্মগোপনে থাকায় অপহরণ মামলার প্রধান আসামী রবিউলকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগমকে (৬৫) আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ। আদালত ওই বৃদ্ধার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। গত ৬ দিন ধরে কারাভোগ করছেন ওই বৃদ্ধ নারী। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৯ নভেম্বর) নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউপির চাঁন্দপুর গ্রামে।

পুলিশের দাবি প্রধান আসামি রবিউলের সঙ্গে তার মা আনোয়ারা বেগমের যোগাযোগ রয়েছে। সেই ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করায় মামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়। 

জানা যায়, চান্দঁপুর গ্রামের মুন্সি মিয়ার ছেলে রবিউল ওই গ্রামের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। কয়েকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে। গত ১৭ জুলাই স্কুলছাত্রী ও রবিউল পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। গত ২ আগস্ট মেয়ের বাবা জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে রবিউলকে প্রধান আসামি করে চার জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, তার সেজো ভাই আমির হোসেন, বড় ভাই মোস্তফা এবং বোন তাজনেহার বেগম। প্রধান আসামী ছাড়া সবাই জামিনে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ছেলে মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন। তাদেরকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারছে না? অযথা বৃদ্ধা নারীকে জেল খাটাচ্ছেন। ওই স্কুলছাত্রী তার মায়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। তার মাকে পুলিশ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে ওই স্কুলছাত্রীর সন্ধ্যান দ্রুত পেয়ে যাবে। ওই মেয়ের দুটি জন্ম নিবন্ধন রয়েছে। একটিতে তার বয়স ১৩ বছর। পরে প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে যাওয়ার আগে জন্ম-নিবন্ধন সংশোধন করে ১৮ বছর করা হয়। ওই নিবন্ধন দিয়ে তারা বিয়ে করেছে। বিয়ের বিষয় ও জন্ম-নিবন্ধন সংশোধন হয়েছে সত্যতা পেয়ে পুন:রায় আবার পরিবার বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মেয়ের বয়স ১৩ বছরের নিবন্ধন  করেন। স্কুলের প্রত্যায়নপত্রে জন্ম নিবন্ধনের বয়স ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১০ সাল উল্লেখ করা হয়েছে। 

মামলার ২নং আসামি আমির হোসেন বলেন, পুলিশ তার মা আনোয়ারা (৬৫) বেগমকে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেন। তার মা এজাহারভুক্ত আসামি না। এবং রবিউলের সঙ্গে তাদের পরিবারের কারও যোগাযোগ নেই বলে দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধান আসামি রবিউলের সঙ্গে তার মা আনোয়ারা বেগমের যোগাযোগ রয়েছে। সেই ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করায় মামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়। এবং তার তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ৭-৩০ ধারায় মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাকেও আটক করা হবে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্তে আনোয়ারার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই তাকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়।