যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইউক্রেনকে সহায়তার অর্থ নেই

ইউক্রেনকে যুদ্ধে সাহায্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ এবং সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস যদি অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহের জন্য বিল পাস না করে তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধ করা কঠিন হয়ে যাবে।  

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে খোদ হোয়াইট হাউস। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গত অক্টোবরে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কংগ্রেসকে ইউক্রেন, ইসরায়েল এবং মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার তহবিল পাশের জন্য অনুরোধ করেছিল। এই প্যাকেজে ইসরায়েলের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলার ও ইউক্রেনের জন্য ৬১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখার কথা ছিল। কিন্তু রিপাবলিকানদের বিরোধীতায় তা আটকে যায়।

গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস। চিঠিতে মার্কিন প্রশাসনের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিভাগের পরিচালক শালান্দা ইয়ং বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কংগ্রেসের পদক্ষেপ ছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনের জন্য আরও অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ ও মার্কিন সামরিক ভান্ডার থেকে সরঞ্জাম সরবরাহের সামর্থ্য আমাদের শেষ হয়ে যাবে।’   

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ‘তহবিল প্রদানে ব্যর্থ হলে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন পিছিয়ে পড়বে। ফলে এই যুদ্ধে ইউক্রেন এখন পর্যন্ত যা অর্জন করেছে তা কেবল ঝুঁকিতেই পড়বে না রাশিয়ার সামরিক বিজয়ের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেবে।’  

অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় এই শূন্যস্থান পূরণে তহবিলের কোনো বিকল্প নেই। কারণ বর্তমানে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বা সময় কোনোটাই আর আমাদের নেই।’

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ডলার ঢালা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি অর্থাৎ রাশিয়ার পরাজয় হয়নি। কট্টর ডানপন্থী রিপাবলিকানরা এখন ইউক্রেনকে আরও ডলার দেওয়ার প্রস্তাবে সায় দিচ্ছেন না। আবার বাইডেন নিজেও পড়েছেন দ্বিমুখী বিপদে। কিয়েভে ডলার দিয়ে বাইডেন মার্কিনীদেরও মনরক্ষা করতে পারছেন না। আবার কিয়েভকে অর্থ না দিলে ওদিকে রাশিয়াও যে জিতে যাবে!