‘মদ কান্ডে’ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুই ফুটবলার আনিসুর রহমান জিকো ও তপু বর্মনের শাস্তির মেয়াদ কমিয়েছে তাদের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। আগামী বছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়েছিলেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মনের শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে শাস্তির মেয়াদ কমছে তাদের, আগামী ১২ ডিসেম্বর দুজনকে ক্যাম্পে যোগ দিতে বলেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি মঙ্গলবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান।
১১ ডিসেম্বর বসুন্ধরা কিংস এএফসি কাপের 'ডি' গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলবে স্বাগতিক উড়িষ্যা এফসির বিপক্ষে। সেই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেলে গ্রুপসেরা হবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার হচ্ছে না তাদের। ক্লাব দু'জনের শাস্তির মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত তাদের আবেদন ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের অনুরোধে। ইমরুল হাসান বলেন, 'এএফসি কাপের ম্যাচের পরের দিন থেকে তারা দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাবে।'
এর আগের দুই ফুটবলারই শাস্তির মেয়াদ কমানোর লিখিত আবেদন করেন ক্লাব সভাপতি বরাবর। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারকে বাদ দিয়ে বসুন্ধরা কিংস এএফসি কাপের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে, যার তিনটি জিতে এবং একটি ড্র করে রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। তপুর অনুপস্থিতি সেভাবে না টের পাওয়া না গেলেও জিকোর না থাকা বিপাকে ফেলেছিল কিংসকে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ২৭ নভেম্বর মালদ্বীপ জায়ান্ট মাজিয়ার বিপক্ষে শুরুতেই জিকোর বিকল্প মেহেদি হাসান শ্রাবনের ভুলে গোল হজম করতে হয়। চার ম্যাচ না হারলেও প্রতিবারই আগে গোল হজম করতে হয়েছে দলটিকে। তারপরও নিজেদের সিদ্ধান্ত অটল থেকেছে কিংস। চাইলে তারা ১১ ডিসেম্বরের আগেই দুইজনকে ফেরাতে পারতো। সেটা তারা করেনি শৃঙ্ক্ষলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।
কিংসের নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতীয় দল থেকেও ছিটকে যান দুই ফুটবলার। তাদের ছাড়া জাতীয় দলও খেলেছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডের প্লে-অফে মালদ্বীপের বিপক্ষে দুই ম্যাচের পর বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও লেবাননের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। ২১ নভেম্বর কিংস অ্যারেনায় শক্তিশালী লেবাননকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়ার পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন দুজনকে ফেরাতে উদ্যোগী হন। তিনি ফুটবলারদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং কিংসের কাছে শাস্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করতে বলেন। কিংস সভাপতি ইমরুল হাসানকেও বাফুফে প্রধান শাস্তি কমানোর অনুরোধ করেন। এ সব দিক বিবেচনায় এনে কিংস তাদের ক্যাম্পে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ক্যাম্পে হয়তো ফিরছেন। তবে কবে তাদের কিংসের হয়ে খেলার সুযোগ মিলবে, সেটা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে কোচ অস্কার ব্রুজোনের ওপর। ১১ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বরে উড়িষ্যা এফসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চারদিন পর কিংসকে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালের মোকাবেলা করতে হবে আবাহনী লিমিটেডের। সেই বাধা উতরে গেলে ১৮ ডিসেম্বর কাপের ফাইনাল। এরপর লিগ শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর থেকে। জিকো-তপু ঠিক কবে থেকে খেলায় ফিরবেন সেটা যেমন ব্রুজোন ঠিক করবেন, একই সঙ্গে তাদের জাতীয় দলে ফেরাটাও নির্ভর করবে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার ওপর।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচে মাজিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে পরের দিন দেশে ফেরার সময় জিকো, তপুসহ কিংসের পাঁচ ফুটবলার ৬৪ বোতল মদ নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন। গুরুতর এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বসুন্ধরা কিংস তাদের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে শেখ মোরসালিন ও রিমন হোসেনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। আর দলটির প্রথম মৌসুমের অধিনায়ক তৌহিদুল আলম সবুজকে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। জরিমানা মিটিয়ে মোরসালিন ও রিমন আগেই ফিরেছেন দলে। এবার ফেরার পালা জিকো ও তপুর।