শাজাহান খান সংসদীয় আসন মাদারীপুর-২ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এর আগে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি নৌমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকার সময় তার ব্যবসা থেকে আয় হতো ৩ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা। আর তার মন্ত্রিত্ব যাওয়ার পর ব্যবসা থেকে আয় কমেছে। এবার নির্বাচনী হলফনামায় তার ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
যদিও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। মন্ত্রী থাকার সময় পেশা থেকে কোনো আয় না থাকলেও এবারের হলফনামায় দেখা গেছে তার পেশা থেকেও অনেক টাকা আসছে। তার পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক) এবং সংসদ সদস্য সম্মানী হিসেবে তার আয় ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৪ টাকা।
এবারের হলফনামা থেকে জানা যায়, শাজাহান খানের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত থেকে তার আসে ৪৮ হাজার ৫৮ টাকা। অন্যান্য অংশীদারি ফার্ম অংশ থেকে আয় ৮ লাখ ৩ হাজার ২৮২ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা থেকে তার আয় ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
এদিকে শাজাহান খানের অস্থাবর সম্পদে দেখা যায়, তার টাকা আছে ৭৭ হাজার। তবে মন্ত্রিত্ব থাকার সময় এই টাকার পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকা। তবে এবারের হলফনামায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ২৭ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণী (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্যসহ) ১ কোটি ৮৭ হাজার টাকা।
হলফনামায় স্থাবর সম্পদ থেকে দেখা যায়, কৃষিজমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য তার ১ একর ৫৫ শতাংশ এওজ, দুধখালীতে আছে। যার মূল ছিল ৩৩ লাখ টাকা। ১২৫ গৈদী মৌজায় ৪ শতাংশ, যার মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকা। ৩৬ নম্বর হাউসদী, পাতিলাদী, ৩৫ নম্বর মাদারদী ও ৬৩ শতাংশ, যার মূল্য ২২ লাখ টাকা। ১২৫ গৌদি মৌজা ১৮৬ দাগে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যার মূল্য ৪৭ হাজার ৮২৫ টাকা। ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ শরীয়তপুরে, যার মূল্য ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৫ টাকা। ৬৯ নম্বর রাজৈরে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ, যার মূল্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গঙ্গাবরদীতে ৫ শতাংশ, যার মূল্য ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। দিয়াপাড়ায় ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যার মূল্য ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এদিকে স্ত্রী-স্বামীর যৌথ নামে জমি আছে ১১০ নং হরিকুমারিয়ায় ২৪ শতাংশের ১/২৬ অংশ, যার মূল্য ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রাজউক পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লটের মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। চুনকুটিয়া ১১৩৪ শতাংশ, যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকাসহ বেশ কিছু জমি হলফনামায় দেখানো হয়।