দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন। দীর্ঘ সময় এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদ কাঁপিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। ২০১৭ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়া সেন গুপ্তা এই আসন থেকে উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার তার জায়গায় নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান আইজিপির ছোট ভাই চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল-আমিন চৌধুরী)।
নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে জয়া সেন গুপ্তা স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন এবারের নির্বাচনে। গত দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তেমন সম্পদ বাড়েনি জয়া সেন গুপ্তার। হলফনামায় জয়া সেন গুপ্তা তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৭২ টাকা। নগদ টাকা ৫ লাখ। ব্যাংক ও আথিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৯১ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ ৬৯ টাকা ৩০ পয়সা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। গাড়ি রয়েছে ৫১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দামের। ১০ ভরি স্বর্ণ অর্জনকালিন দামে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা।
ইলেট্রনিক সামগ্রী মাত্র একটি টেলিভিশন রয়েছে তার- যার দাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। আসবাপত্রের মধ্যে রয়েছে একটি সোফা ও একটি খাট যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও স্থাবর সম্পত্তি হলফনামায় জয়া সেন গুপ্তা উল্লেখ করেছেন (অর্জনকালিন সময়ের দাম দিয়ে) ৬ লক্ষ টাকা দামের ১০ একর কৃষি জমি। অকৃষি জমি ২২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৫ একর। ৯ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বাণিজিক্য ভবন রয়েছে যার মূল্য দেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। ঢাকা ও দিরাইয়ে বাড়ি রয়েছে ৫৪ লক্ষ ৫ হাজার ১শত ৮৪ টাকা মূল্যের। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগ নেই। বিগত সময়ের তুলনায় জয়া সেনের সম্পদের পরিমাণ বাড়েনি। জয়া সেন গুপ্তা শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
এদিকে, নৌকার মনোনয়ন পাওয়া সদ্য সাবেক শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বর্তমান আইজিপির ছোট ভাই চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। কৃষিজীবী থেকে হয়েছেন ব্যবসায়ী। কৃষিখাত ব্যবসা ও উপজেলা পরিষদের সম্মানি ভাতা থেকে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও অন্যান্য সম্পদ মধ্যে দেখিয়েছেন নগদ ৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫শ ৪৬ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৯ হাজার ১শ ৭১ টাকা। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩ লক্ষ টাকা মূল্যে’র কিন্তু পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। ইলেকট্রিক সামগ্রী রয়েছে ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের। ফার্নিচার রয়েছে ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের। ব্যবসার পূঁজি রয়েছে ২৫ লক্ষ ২০ হাজার ২০০ টাকা। নিজ নামে জমি আছে ৩.৩০ একর- যার মূল্য ছিল ৫৫ হাজার টাকা। যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৪৮.০৫ একর। অকৃষি জমি রয়েছে ৩৩.৩৪ শতক যার মূল্য ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮শ টাকা। নিমার্ণাধীন একটি টিন শেড বাসা রয়েছে যার মূল্য উল্লেখ করেননি। যৌথ মালিকানায় গ্রামে রয়েছে পৈতিক বাড়ি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শাল্লা শাখায় ঋণ রয়েছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার।
২০১৪ সালে কৃষি খাত থেকে তার আয় ছিল ৯০ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি এ খাত থেকে আয় দেখিয়েছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে মৎস্য খাতে কোনো আয় না থাকলেও ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার সময় তিনি এ খাত থেকে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আল মাহমুদ ২০১৪ সালে ব্যবসার পুঁজি থেকে আয় দেখিয়েছিলেন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাওয়ার বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা ২০১৯ সালে ছিল ৩ লাখ টাকা।
চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও সেগুলো বর্তমানে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এমএসএস পাস। তিনি দেশ রুপান্তরকে বলেন, আমার আয়ের উৎস আমি হলফনামায় উল্লেখ করেছি। আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। ব্যবসার মাধ্যমেই আমার এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ আসনে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও জয়া সেনগুপ্তা ছাড়ও গণতন্ত্রী পার্টির মিহির রঞ্জন দাস নির্বাচনে লড়বেন। আর বাকি অন্য তিন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে বাতিল হয়ে গেছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন সাবেক যুগ্ম-সচিব মো. মিজানুর রহমান, ঋতেশ রঞ্জন দেব ও মো. সামছুল হক চৌধুরী।