রিকশাচালক বললেন

সারা দিনে কামাই করি ৩০০ টেহা, পেঁয়াজের দাম ২০০

‘সারা দিনে কামাই করি ৩০০ টেহা, পেঁয়াজের দামেই যদি হয় ২০০ টেহা তাহলে বাকি বাজার কি দিয়ে করবাম? কি সময় আইলো এহন! একটা সময় ২০০ টেহার বাজার করলে ব্যাগ ভরে রিকশা দিয়ে বাড়িতে নিতে অইতো। আর এহন ২০০ টেহা কেজি অইছে পেঁয়াজ। মনে হয় পেট ভইরা আর ভাত খাইতেও পারতাম না।'

কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাঁচাশী গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি আরও বলেন, বুড়া অইয়া গেছি বলে আমার গাড়িত লোকও বেশি ওঠতে চায় না। সারা দিনে তিনশ সাড়ে তিনশ টাকার বেশি কামাই হয় না। পাঁচজনের সংসার। আজ ২৯০ টেহা কামাই অইছে, ২০০ টেহা যদি লাগে পেঁয়াজ কিনতে তাইলে তরকারি কি দিয়ে কিনব! গরিবের মনে হয় আর বাঁচার বাউ (উপায়) নাই।’ 

আব্দুল বারেক নামের এক অটোচালক বলেন, ‘প্রতিদিন আয় হয় ৭শ থেকে ৮শ টাকা। এর মধ্যে গাড়ির মালিককে জমা দেওয়া লাগে ৫শ টাকা। তিনশ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। পেঁয়াজের দামই ২০০ টাকা, তাহলে বুঝেন আমরার মতন গরীব কেমনে বাঁচব।’ 

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে বাজার করতে আসা সিএনজিচালক শহিদ মিয়া বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম শুনে আর কিনিনি৷ বাড়িতে মনে হয় অল্প কয়েকটা পেঁয়াজ আছে, বাচ্চার মাকে বলবো সেগুলো দিয়ে চালিয়ে দিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পেঁয়াজেই না, সব জিনিসের দামই বাড়তি।’ 

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মুনতাজ মিয়া বলেন, আমরা বেশি দামে কিনলে বেশি দামে বিক্রি করি। আর কম দামে কিনলে কম দামেই বিক্রি করি। দাম বাড়া কমার ব্যাপারে আমাদের কোনো হাত নেই। এটা আড়তদারদের বিষয়। 

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার মো. মাসুদ রানা বলেন, আমার আড়তে কোনো পেঁয়াজ নেই। যেগুলো ছিল- সেগুলো আগের দামেই বিক্রি করে দিয়েছি। আমরা ছোট আড়তদার, আমদানি না থাকলে আমরা কোথায় পেঁয়াজ পাব? 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ, বড় বড় আড়তদারদের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট ও দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন না থাকায় বাজার চড়া। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ যেন বেশি রাখা না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।