ছেলে সন্তানদের আবদার মেটাতে মিরসরাই পৌর বাজারে ইফতারের জন্য ফল কিনতে এসেছিলেন দিনমজুর ফারুক। ভেবেছিলেন পরিবারের জন্য কিছু মাল্টা, কমলা, আপেল আর আঙুর কিনবেন। সেই সাথে কিনবেন ইফতারের প্রধান ফল খেজুর। কিন্তু ফল কিনতে গিয়ে দাম শুনে চোখে সর্ষে ফুল দেখলেন ফারুক। মাত্র দুইটি মাল্টা, চারটি কমলা, চারটি আপেল, এক গুচ্ছ আঙুর আর এক পা খেজুর কিনতেই তাকে গুণতে হয়েছে ৮৬০ টাকা। যেখানে দিন মজুরিতে কাজ করে দৈনিক তার আয় হয় মাত্র ৭০০ টাকা।
ফারুক বললেন, সব সময় ফলমূল খেতে পারি না। অল্প অল্প করে কিছু ফল কিনলাম তাতেই ৮৬০ টাকা চলে গেল। প্রথম রোজায় সেহরির জন্য এক কেজি মাংস কিনেছিলাম। সেটার দামও একদিনের মজুরির চেয়ে বেশি।
ফারুকের মত এমন অনেকেই ফলমূল কিনবেন এমনটা আশা করে এলেও দোকানে এসে দাম শুনে নিরাশ হতে হয়। রমজানে ইফতারের টেবিলে ফল রাখার সামর্থ্য যেন দিন দিন কমছে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে ফলের বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের ফলের দাম। ইফতারের প্রধান উপকরণ হিসেবে পরিচিত খেজুর, আঙুর, আনার, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন বাজার ও ফলের দোকানগুলোতে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে ঘিরে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।
মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মিঠাছড়াসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার বেধে প্রতি কেজি সবুজ আঙুর ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০-৬০০ টাকা, আপেল কেজি প্রতি ৩২০-৩৫০ টাকা, মাল্টা ২৮০-৩০০ টাকা, কমলা ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশি ফলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তি দেশীয় ফলের দামও। প্রতি কেজি কূল ১০০-১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০-১৫০ টাকা, আনারস আকার বেদে প্রতি জোড়া ১৫০-২০০, প্রতি ডজন দেশি কলা ১০০-১২০ টাকা, কদবেল জোড়া ১৫০ টাকা, আকার ভেদে ডাব প্রতি পিস ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে বিক্রি হচ্ছে সিজনের নতুন ফল তরমুজও। বিক্রেতারা লাল রঙ ও মিষ্টির নিশ্চয়তা দিয়ে ১০০ টাকা কেজি করে বিক্রি করছেন। যে হিসেবে একেকটি আস্ত ছোট সাইজের তরমুজ কিনতেও গুণতে হচ্ছে ন্যূনতম ২০০ টাকা। এছাড়া এক হালি মাঝারি সাইজের লেবু হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
এদিকে ফল ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার আগে যেসব ফল স্বাভাবিক দামে পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম রোজার প্রথমদিকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন ধীরে ধীরে দাম কমে আসতে শুরু করেছে। আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন খামেনির ছেলে মোজতবা