যারা অভিনয় করেন তাদের সবাইকে স্যালুট

ক্লোজআপ তারকা মেহরাব, সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি একাধারে মডেল ও অভিনেতা। গান গাইতে যেমন ভালোবাসেন তেমনি শখের বসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেও পছন্দ করেন। জানালেন, শিগগিরই নতুন গান নিয়ে আসছেন তিনি। গান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর

অনেক দিন গান নেই। বলছিলেন, বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাহলে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কী নিয়ে?

গান নেই বিষয়টা আসলে তেমন না। গান নিয়েই আছি, নতুন বেশ কয়েকটা গান প্রস্তুত করেছি যেগুলো খুব শিগগিরই প্রকাশ করব। সেগুলো তৈরি করতেই খানিকটা সময় নিয়েছি। তাছাড়া এখন স্টেজ শো নিয়ে বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছে। অক্টোবর, নভেম্বর টানা শো করেছি। ডিসেম্বরেও অনেকগুলো শোয়ের বুকিং হয়ে গেছে। এই মাসটাও ভালো ব্যস্ততা যাবে। 

নতুন গানের কথা বললেন। সেগুলো নিয়ে একটু জানাবেন...

তিনটা গান প্রস্তুত করেছি, যার সবগুলোই রোমান্টিক। নতুন বছরে গানগুলো আসবে। এখন মিউজিক ভিডিও নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। একটা গান আমার লেখা ‘ছেড়ে যেতে পারব না’, আর দুটো গান লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। উনার একটা গানের শিরোনাম ‘কাঁচা রোদের আলো’, অন্যটির শিরোনাম এখনো চূড়ান্ত করিনি। গানগুলোর মিউজিক করেছেন আদিব কবির। এরমধ্যে আমার লেখা গানটি রোমান্টিকের পাশাপাশি একটু খুনসুটি টাইপ। এই গানটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল।

এই গানটির বিশেষত্ব কী বা কেন স্পেশাল?  

এই গানটি লিখেছি আমার স্ত্রীকে (রুশী চৌধুরী) নিয়ে। গানটি তাকে উৎসর্গ করেই লেখা। এর আগে বেশ কিছু গান লিখলেও এবারই প্রথম স্ত্রীর জন্য কোনো গান লেখা। আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই রাত জাগি। একদিন রুশী খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল, আমি তার পাশে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে তার দিকে খেয়াল করলাম ল্যাম্প বাতির আলোতে ওর মুখটা অনেক বেশি মায়াবী লাগছিল। আমি অবাক নয়নে তার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে কাগজ কলম নিয়ে সেখানে বসেই গানটি লিখে ফেলি। এই মুহূর্তটাকে স্পেশাল করে রাখতে চাই।

গায়কের পাশাপাশি আপনি মডেল এবং অভিনেতাও। সম্ভবত, সাত বছর আগে নাটকে অভিনয় করেছিলেন। এরপর আপনাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি কেন?

মডেল বলব না, কারণ নিজের গানে নিজে মডেল হয়েছি। এর বাইরে অন্য কোথাও মডেলিং করিনি। আর অভিনয় নিয়ে যদি বলি, অভিনয় করতে ভালো লাগে। খুব বেশি যে করেছি, এমনও না। তিনটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। তিনটি নাটকেই খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। সে সময়টাতে স্টেজ শো, গান সবকিছু সামলে অভিনয় করা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। একটা সময় আমার কাছে মনে হয়েছে, অভিনয় করাটা বেশ কঠিন। আমি যখন প্রথম দিন অভিনয় করি তখনই মনে হয়েছে, অনেক কঠিন বিষয়। গল্পে, চরিত্রে ডুবে যাওয়া এবং নিজেকে সেই চরিত্রে ধারণ করে সঠিক এক্সপ্রেশনে সেসব প্রকাশ করাÑ খুবই কঠিন বিষয়। আমরা অনেক কিছুকে যতটা সহজ মনে করি আসলে সেটা ততটা সহজ না। যারা অভিনয় করেন তাদের সবাইকে আমার স্যালুট। এখন আপাতত অভিনয় নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, গান নিয়ে থাকতে চাই। তবে সামনে পরিকল্পনা আছে প্রোডাকশন হাউজ করার। আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই অনেক বেশি সিনেমা ফ্রিক। সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করি। সিনেমা দেখে আমরা নিজেরা নিজেরাই আলোচনা-সমালোচনা করি।

আপনার মিউজিক ভিডিওগুলোতে মডেল হিসেবে সবসময় আপনার স্ত্রীকেই দেখা যায়। অন্যান্য মডেলের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না?

আমার দুইটা গানের মডেল ছিল আমার স্ত্রী এবং সামনেও আমার যত মিউজিক ভিডিও হবে সেখানে সেই থাকবে। আমার স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে কখনোই কাজ করব না। আমি যেখানে নায়ক থাকব সেখানে নায়িকা আমার স্ত্রী-ই থাকবে। সে আমার অনস্ক্রিন-অফস্ক্রিন, দুই জায়গারই নায়িকা। আমার জীবনের নায়িকা একজনই। আমার সব কল্পনাতে সে থাকে এবং আমি এভাবেই থাকতে চাই আজীবন।