ডিবি অফিসে গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত প্রতিমন্ত্রীর লোকের

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের কথা বলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাতজনের কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার প্রতিমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি রাজধানীর মিন্টো রোডে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেন।

প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তার এক লোক ওই টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিপক্ষ কিছু ব্যক্তি আমার নাম ভাঙিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল; সেটা আমি জানতাম না। পরে জানতে পেরে আমি তাদের বলেছি টাকা ফেরত দিতে। একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি সবার টাকা ফিরিয়ে দিতে।’ তিনি বলেন, ‘শুনেছি তাদের কেউ একজন ডিবি কার্যালয়ে টাকা ফেরত দিয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রীর লোক ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভুক্তভোগী আবু সুফিয়ানও জানিয়েছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মন্ত্রীর এক লোক টাকা নিয়েছিলেন। আমি সাতজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা তাদের দিয়েছিলাম।’

আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আজ (গতকাল) প্রতিমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি ডিবি কার্যালয়ে এসে টাকা ফেরত দিয়েছেন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) ফজলে এলাহী আমাদের টাকা বুঝে নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো টাকা হাতে পাইনি। দুদিন পর যেতে বলেছেন টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য।’

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার ফজলে এলাহী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, যারা আবু সুফিয়ানের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, তারা যেন টাকাটা বুঝে পান তা নিশ্চিত করা হবে। সুফিয়ানকে ওইসব ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর দিতে বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার টাকা ফেরত চাইতে রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রতিমন্ত্রীর বাসায় যান আবু সুফিয়ানসহ তিন ভুক্তভোগী। আবু সুফিয়ান অভিযোগ করে বলেন, টাকা ফেরত চাইলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে থাকা লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার শিকার হয়ে দুজন বাসার ফটক দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। অন্যজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।