লোকসভায় আগন্তুকের কান্ড প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা

১৩ ডিসেম্বর ২০০১, ভারতের লোকসভায় চালানো হয়েছিল ভয়ংকর জঙ্গি হামলা। সপ্তাহখানেক আগে এই দিনটিতেই ফের লোকসভা ‘নাড়িয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন। গতকাল ১৩ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় সত্যিই ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের অষ্টম দিনে দুই আগন্তুক অনুপ্রবেশ করে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা আচমকাই দর্শক গ্যালারি থেকে সভাকক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘স্বৈরাচার বিরোধী’ স্লোগান দিতে দিতে এবং রঙিন ধোঁয়া ছড়িয়ে দেন। অধিবেশন চলাকালে এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে লোকসভা কক্ষে। শুরু হয় হট্টগোল। পরে নিরাপত্তারক্ষী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য তাদের ধরে ফেলেন। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তবে আগে থেকেই হামলার হুমকি থাকা এমন দিনে এই ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ইউনিয়ন মন্ত্রী হরদিপ সিং পুরিসহ অনেকেই ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন। তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতের নতুন লোকসভা ভবনের দর্শক সারি থেকে হঠাৎ লাফিয়ে নামেন দুই ব্যক্তি, তারা সংসদ সদস্যদের চেয়ার-ডেস্কের ওপর দাঁড়িয়ে হাতে থাকা ক্যানে চাপ দেন, মুহূর্তেই ক্যান থেকে বেরিয়ে আসে হলদে ধোঁয়া। লোকসভায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরে নিরাপত্তারক্ষী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য ওই দুজনকে ধরে ফেলেন। নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ায় দুপুর ২টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, লোকসভা ভবনের বাইরেও একজন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকেও ধোঁয়ার ক্যান উদ্ধার করা হয়েছে। বাইরের হামলাকারী দুজনের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ, তাদের একজনের নাম সিন্দে এবং অন্যজনের নাম নিলাম। প্রকাশিত এক ভিডিওতে ধোঁয়া-হামলার সময় তাদের ‘স্বৈরাচার সহ্য করা হবে না’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, লোকসভা সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আচমকাই এমন হামলায় তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এমনকি, অজ্ঞাতপরিচয়রা গুলি চালাতে পারে বা বোমা ছুড়তে পারে প্রাথমিকভাবে এমনও আতঙ্ক তৈরি হয় তার মনে। যদিও দুজনকে আটক করা গেছে বলেও জানান তিনি। কী করে লোকসভায় এমন ঘটতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

বহুজন সমাজ পার্টির লোকসভা সদস্য দানিশ আলি এনডিটিভিকে বলেন, লোকসভার ভেতরে হামলা করাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর একটি ভিজিটর পাস বা দর্শনার্থী পরিচিতি পাওয়া গেছে, যেটি বিজেপির লোকসভা সদস্য প্রতাপ সিমহার কার্যালয় থেকে ইস্যু করা দেখা গেছে। যেখান থেকেই পাস আনুক না কেন, সংসদ ভবনের ভেতরে ঢুকতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার করতে হয়।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেছেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি, ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশও তদন্তে নেমেছে। অবশ্য দিল্লি পুলিশের ডিসিপি জানিয়েছেন, কোনো হামলা হয়নি। কালার স্মোক নিয়ে বিক্ষোভ করেন দুই ব্যক্তি।

সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, ঘটনার পর লোকসভার বাইরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। দুপুর ২টার পর আবার শুরু হয় অধিবেশন। যে হলুদ ধোঁয়া সভার ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিষাক্ত কি না, তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে এই ধোঁয়া ক্ষতিকারক নয় বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তবে দুই ব্যক্তি কেন এমন কাণ্ড ঘটাল? তাদের উদ্দেশ্য কী? তাদের সঙ্গে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক আছে কি না, তা পরিষ্কার জানা যায়নি।