এমপি শম্ভুসহ আ.লীগের চার নেতাকে জরিমানার সুপারিশ

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভয়ভীতি, হুমকি ও বর্ধিত সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুসহ ৪ আওয়ামী লীগ নেতাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমানকেও নির্বাচনী প্রচারনায় রঙিন পোস্টার ব্যবহার করায় অর্থদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। 

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বরগুনা-১ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আহমদ সাঈদ স্বাক্ষরিত তিনটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর অধিনে এসব সুপারিশ করা হয়।

নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্ধের আগে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা মুহুর্তে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বর্ধিত সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত জনসভায় প্রার্থী বর্তমান এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নির্বাচনী প্রচারণামূলক বক্তব্য দিয়ে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১২ এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন। আচরণ বিধিমালার ১৮ বিধির আলোকে নির্বাচন পূর্ব একটি অনিয়ম করায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানার সুপারিশ করা হয়।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবি উল কবির জোমাদ্দার ১২ ও ১৩ বিধান লঙ্ঘন করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভয়ভীতি ও মুগুর দিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান ও কড়ই বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক মাঝি আচরণ বিধিমালার বিধি ১১(ক) ও ১২ লঙ্ঘন করেছেন। দুটি করে নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম করাতে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমান ও তার ভাইয়ের ছেলে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজাকে প্রার্থীর রঙিন ছবি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার দায়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। আরেকটি প্রতিবেদনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তার (খলিলুর রহমান) পক্ষের লোকজন দিয়ে নিজের রঙিন ছবি সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৭(১), ৭(৩), ৭(৮) এবং ১২ বিধি লঙ্ঘন করে ১৭ বিধির অধিনে নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম সংঘঠিত হয়। আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকেও আচরণ বিধিমালার বিধি ১৮ এর অধীনে ৭ হাজার টাকা জরিমানা সুপারিশ করা হয়।

বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা আসলেই জরিমানার বিষয়টি কার্যকর করা হবে।