দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যার মধ্যে বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায় ৪২৩ জনের মনোনয়নপত্র। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছিলেন ৩২৪ জন। তবে এই ধাপে এসেও বাতিল হয়েছে ৬০ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন। শুনানি শেষে মাত্র ১২৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এই নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হচ্ছে আজ ১৭ ডিসেম্বর। শেষ দিনেও বৈধ ঘোষিত অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে আজ দিনশেষে জানা যাবে শেষমেশ কতজন ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন। আর আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা শুরু করতে পারবেন তাদের প্রচার-প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাদ পড়াদের মধ্যে বড় অংশ স্বতন্ত্র। তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষর নিয়ে জটিলতা। এর বাইরে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দেওয়া এবং মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগও রয়েছে কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
ইসির নিয়ম অনুযায়ী, দলের বাইরে গিয়ে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সমর্থক হিসেবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের নাম, স্বাক্ষর ও মোবাইল ফোন নম্বরসহ তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হলে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে কমিশন। অবশ্য ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। অনেকেই ইতিমধ্যে আদালতের দারস্থও হয়েছেন। সেখান থেকেও প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে।
কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন টানা ছয় দিন আপিল শুনানি করেছে। ৫৬০টি আবেদনের মধ্যে ২৮৫টি মঞ্জুর করে কমিশন। বাকি ২৭৫টি আবেদন নাকচ হয়। মঞ্জুর হওয়া আপিলের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে অবৈধ ঘোষিত ২৮০ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। অন্যদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছেন এমন পাঁচ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা হারিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আপিলে।
৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির অভিযোগে আওয়ামী লীগের (নৌকা) পাঁচজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। অবশ্য আদালতের মাধ্যমে তাদের এখনো প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে। প্রার্থিতা হারানো নৌকার ওই পাঁচজন হলেন ফরিদপুর-৩ আসনে শামীম হক, কক্সবাজার-১-এর সালাহ উদ্দিন আহমদ, বরিশাল-৪-এর শাম্মী আহমেদ, ময়মনসিংহ-৯-এর আবদুস সালাম এবং যশোর-৪ আসনের এনামুল হক বাবুল। এদের মধ্যে ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারিয়েছেন সালাহ উদ্দিন আহমদ, আবদুস সালাম ও এনামুল হক বাবুল। আর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা হারিয়েছেন শামীম হক ও শাম্মী আহমেদ।
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল ৪৪টি। এর মধ্যে ২৯টি দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে গণতন্ত্রী পার্টির সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে ইসি। যদিও দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দিতে ইসিতে আবেদন করা হয়েছে।
বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জাপার ২৩ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৬ জন, বিএনএমের ৭ জন ও বিএনএফের ১২ জন। এ ছাড়া গণফোরামের পাঁচজন প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছিলেন। পাঁচজনই আপিলে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
অন্যদিকে, জাসদের আটজন, তরীকত ফেডারেশনের দুজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও সাম্যবাদী দলের একজন, বিকল্পধারার একজন, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ১৯ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১২ জন, কল্যাণ পার্টির ৩ জন, জাকের পার্টির ৬ জন এবং খেলাফত আন্দোলনের ৩ জন আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
কাল থেকে শুরু প্রচারণা : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামীকাল সোমবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে ভোট ছাড়া কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। একই সঙ্গে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা থেকে সবাইকে বিরত রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ না করতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।