সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল ঘোষণা করছি।’ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পন্ড হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি। এরপর থেকে দলটি এক-দুই দিন পরপর কখনো অবরোধ, কখনো হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
‘বিএনপি নির্বাচন বানচালে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে ‘মিথ্যা কথা বলার শাহেন শাহ’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, ‘উদ্ভট এবং অসংলগ্ন অপপ্রচারের যদি কোনো মহাবিদ্যালয় করা যায় তাহলে তার প্রিন্সিপাল করা যেতে পারে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবারের পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা না মানলে নাকি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার প্রশ্ন এই সরকারের দলদাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইসি যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা কোন ক্ষমতাবলে ও কোন আইনে? সংবিধানের কোন ধারা বলে দিয়েছে? একটা নীলনকশার পাতানো নির্বাচন নির্বাচন খেলাকে সুরক্ষা দিতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করেছে তা সম্পূর্ণরূপে একাধারে অনৈতিক, অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী। এটা জনগণের মৌলিক অধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।’
রিজভী বলেন, ‘কী হাস্যকর আজগুবি বয়ান! আসলে তারা পুলিশকে দিয়ে পরিকল্পনা মতো বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে নিজেদের তৈরি করা নাশকতার মাত্রা বাড়াতে চায়। দেশের মানুষ জানে, ছাত্রলীগ-যুবলীগ আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতিটি এলাকায় অস্ত্রের ডিপো বানিয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের রুটি-রুজির সংগ্রাম রুখতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে। বিএনপিসহ সব বিরোধী দল আন্দোলন করছে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ও দেশকে বাকশাল থেকে গণতন্ত্রে ফেরানোর জন্য। আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। বিএনপি সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে। যুগ যুগ ধরে প্রমাণিত হয়েছে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নাশকতার একচেটিয়া কৃতিত্ব বা পেটেন্ট আওয়ামী লীগের।’